প্রকাশিত : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:০০ (বুধবার)
প্রবাসীদের জন্য সুখবর: বেতন বাড়াচ্ছে যে দেশ

মালয়েশিয়ায় স্বল্প আয়ের শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বর্তমান ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার রিঙ্গিত করার বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনায় রয়েছে, যা বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশিসহ বিদেশি শ্রমিকরাও সরাসরি উপকৃত হবেন।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দেশটির অর্থমন্ত্রী আকমান নাসরুল্লাহ মোহাম্মদ নাসির জানান, ২০২৭ সালের বাজেট ঘোষণার সময় প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন। তিনি বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য রেখে মজুরি বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমও ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, কোম্পানিগুলো বিপুল মুনাফা করলেও শ্রমিকদের কম মজুরি পাওয়া টেকসই নয়। উৎপাদনশীলতা বাড়লে শ্রমিকদেরও তার সুফল পাওয়া উচিত।

বর্তমানে মালয়েশিয়ায় ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৫০ হাজার টাকার সমান। নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে তা বেড়ে ২ হাজার রিঙ্গিতে উন্নীত হবে।

তবে শ্রমিক সংগঠনগুলো আরও বেশি মজুরি দাবি করেছে। তাদের দাবি, ন্যূনতম মজুরি ৩ হাজার ১০০ রিঙ্গিত নির্ধারণ করা উচিত, যা ‘জীবনযাপনের উপযোগী মজুরি’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও ব্যবসায়ীরা বলছেন, এত বড় বৃদ্ধি ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।

২০১৩ সালে ৯০০ রিঙ্গিত দিয়ে মালয়েশিয়ায় ন্যূনতম মজুরি চালু হয়। এরপর ধাপে ধাপে বাড়তে বাড়তে ২০২৫ সালে তা ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিতে পৌঁছায়।

দেশটির আইনে বিদেশি শ্রমিকরাও ন্যূনতম মজুরির আওতায় থাকায় বাংলাদেশিসহ অন্যান্য দেশের কর্মীরাও এ সুবিধা পান। নতুন হার কার্যকর হলে তাদের বেতনও বাড়বে।

এদিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় প্রবাসী শ্রমিকদের সঞ্চয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মীরা। তাদের মতে, ন্যূনতম মজুরি বাড়ানো হলে তা কিছুটা স্বস্তি এনে দেবে।