ছবি: সংগৃহীত
হবিগঞ্জের মাধবপুরে হামের প্রকোপ বাড়ছে। গত সাত দিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাম আক্রান্ত ৫৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। আক্রান্তদের বেশির ভাগই শিশু। রোগীর চাপ সামলাতে নির্ধারিত শয্যার বাইরে মেঝেতেও শিশুদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন অভিভাবকেরা।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু ওয়ার্ডে সরেজমিনে দেখা যায়, রোগীর চাপে সেখানে ঠাঁই নেই। শয্যা সংকটের কারণে কয়েকজন শিশুকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সন্তানদের পাশে বসে ও দাঁড়িয়ে সময় কাটাচ্ছেন স্বজনেরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত সাত দিনে হাম আক্রান্ত ৫৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এ ছাড়া অর্ধশতাধিক রোগী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।
বুল্লা ইউনিয়নের বাসিন্দা আলা উদ্দিনের আট বছর বয়সী মেয়ে আকলিমা আক্তার শুক্রবার থেকে হামে আক্রান্ত। বাড়িতে চিকিৎসা দেওয়ার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে রোববার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আলা উদ্দিন বলেন, মেয়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। চিকিৎসক পরীক্ষা করে কয়েকটি ওষুধ লিখে দিয়েছেন। এর বেশির ভাগই বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে।
হাম আক্রান্ত আরেক শিশু মাইসা আক্তারকে সোমবার হাসপাতালে ভর্তি করেন তার বাবা শহিদ মিয়া। পেশায় কৃষক শহিদ মিয়া বলেন, মেয়ের চিকিৎসার জন্য ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে। সীমিত আয়ের পরিবারের জন্য এতে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালনকারী নার্স সুবর্ণা রানী জানান, হাসপাতালে মজুত থাকা ওষুধ রোগীদের বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। তবে কিছু প্রয়োজনীয় ওষুধের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় সেগুলো বাইরে থেকে সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, একজন রোগীর সঙ্গে একাধিক স্বজন হাসপাতালে আসায় ওয়ার্ডে ভিড় বেড়ে যাচ্ছে। এতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা দিতেও সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইমরুল হাসান জানান, হামের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই। রোগীর জ্বর, শ্বাসকষ্টসহ যেসব উপসর্গ দেখা দেয়, সেগুলোর ভিত্তিতে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, বর্তমানে রোগীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় প্রয়োজনের তুলনায় ওষুধের চাহিদাও বেড়েছে। ফলে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, রোগীর চাপ সামাল দিয়ে চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এদিকে হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় হাসপাতালের শয্যা ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট দ্রুত নিরসনের দাবি জানিয়েছেন রোগীর স্বজনেরা।