প্রকাশিত : ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২০ (বৃহস্পতিবার)
ভারতে গণতন্ত্র রক্ষায় একসঙ্গে মমতা-সোনিয়া

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সোনিয়া গান্ধী।

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিরোধীদের ইন্ডিয়া জোট। আগামী ২ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ মিছিল ও জেলাশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভের কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিল্লিতে বিরোধী জোটের এক সাংবাদিক বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে বিরোধীরা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। এমনকি প্রাণের ঝুঁকি থাকলেও আন্দোলন থেকে পিছিয়ে যাবেন না বলে জানান তিনি।

মমতার বক্তব্যের সময় তার পাশে ছিলেন কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি সোনিয়া গান্ধী। বক্তব্য শেষে সোনিয়া তার পিঠে হাত দিয়ে সমর্থন জানান। পরে মমতাও সোনিয়ার হাত শক্ত করে ধরেন। বিরোধী শিবিরের ঐক্যের বার্তা হিসেবে ঘটনাটি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরে মতপার্থক্যের খবর প্রকাশ্যে আসার পর জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। একটি ইংরেজি দৈনিকে কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে মতানৈক্য থাকা স্বাভাবিক।

সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, ভোট কারচুপির মাধ্যমে বিজেপি মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা ও পশ্চিমবঙ্গে জয় পেয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানান মমতা।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে মমতা বলেন, মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন ব্যবস্থায় সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে ভোটে কারচুপির অভিযোগও তোলেন তিনি।

মমতা আরও বলেন, জ্ঞানেশ কুমারকে সরানো না হলে আন্দোলন আরও বড় আকার নেবে। তারা একসঙ্গে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন এবং গণতন্ত্র রক্ষার জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই করবেন বলেও জানান তিনি।

যেসব কর্মসূচি ঘোষণা

ইন্ডিয়া জোটের ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-

২ থেকে ৮ অক্টোবর: বিভিন্ন জেলায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ মিছিল;
২ থেকে ৮ অক্টোবর: জেলাশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ;
৬ অক্টোবর: দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় পর্যন্ত বিরোধী সাংসদদের মিছিল;
অক্টোবরে দ্বিতীয় সপ্তাহ: রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় চাওয়া;
দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঁচটি বড় জনসভা আয়োজন।

৬ অক্টোবরের কর্মসূচিতে অংশ নিতে সব বিরোধী সাংসদকে দিল্লিতে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, আন্দোলনে সাধারণ মানুষ, যুবসমাজ, ইন্ডিয়া জোটের শরিক দল এবং গণতন্ত্র ও ঐক্য রক্ষায় কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনকে যুক্ত করা হবে।