ছবি: সংগৃহীত
সিলেট নগরের ঐতিহ্যবাহী জামেয়া মাদানিয়া ইসলামিয়া কাজীরবাজার মাদ্রাসায় ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নির্যাতন ও বলাৎকারের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার মতিউর রহমানকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। তবে এই ঘটনাটি ধামাচাপা দিতেও বিভিন্নভাবে চেষ্টা চলছে বলে ভোক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে মতিউর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে শিশুটির মা বাদী হয়ে বুধবার থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, গত এক মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষক মতিউর রহমান শিশুটিকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে বলাৎকারের চেষ্টা করেন। সর্বশেষ গত ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টার দিকে শিশুটিকে কক্ষে ডেকে নিয়ে পোশাক খুলে বলাৎকারের চেষ্টা করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, কয়েক মাস ধরে বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হলেও ভয় ও হুমকির কারণে শিশুটি বিষয়টি কাউকে জানায়নি। এমনকি ঘটনার পর বারবার মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে বাড়িতে চলে আসত। পরে আবারও মাদ্রাসায় পাঠানো হলে একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কায় সে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে আসে। একপর্যায়ে মামার কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানায় শিশুটি।
পরে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এদিকে শিশুটির দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মাদ্রাসায় তার বয়সী আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীও শিক্ষকদের হাতে যৌন হয়রানি বা নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।
সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মইনুল জাকির বলেন, শিশুটির মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষক মতিউর রহমানকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপার্দ করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত করছে।
এ ঘটনায় মাদ্রাসাটির পরিবেশ ও আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুুলেছেন ঘাসিটুলা লামাপাড়ার শিশুটির মা। তিনি বলেন, ‘আমার ভাগ্য ভালো আমি আমার সন্তানকে ফিরে পেয়েছি।সে সুস্থ অবস্থায় ফিরে এসেছে। অন্যদের কি অবস্থা যে কি তা নিয়ে তিনি শংকা প্রকাশ করেন। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শান্তি দাবি করেন। তিনি বলেন হুজুর হয়েও যারা এসব কাজ করেন তারা নরপশু।
ঘটনার বর্ণনায় শিশুটি জানায় প্রতি শুক্রবার সকালে ফজরের নামাজের পর সবাই বেলা ১১টা পর্যন্ত ঘুমায়। এই সুযোগে বড়লেখার এই মতিউর রহমান হুজুর তাকেসহ অনেক শিশুকে মাথা টিপানোর কথা বলে তার রুমে ডেকে নিতো। গত ১ মাস ধরেই তিনি এইভাবে তাকে দিয়েও মাথা টিপিয়েছেন। আর সুযোগ মতো বিভিন্ন খারাপ কাজ করতো। তিনি শিক্ষার্থীদের প্যান্ট খুলে ফেলতেন। গার্জিয়ানকে বলে দেওয়ার কথা বললে তিনি নানান হুমকি দিতেন। কিন্তু এসব ভালো লাগতো না বলে শিশুটি মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যেতো।
এদিকে মাদ্রাসার কজন শিক্ষক তাদের বাসায় গিয়ে শিশুটির খোঁজ খবর নিয়েছেন।