ছবি: সংগৃহীত
‘গরমে মুরগি ডিম কম দেয়’-সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের এমন বক্তব্যের পরই খুচরা বাজারে ডিমের দাম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নগরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার দোকানে চারটি ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি ডিমের দাম পড়ছে ১৫ টাকা।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেট নগরের কানশাইলে সুরমা নদীর তীর প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার পেছনে মৌসুমি প্রভাবের কথা তুলে ধরেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
ডিমের দাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গরমের সময়ে বিভিন্ন কারণে মুরগির ডিম উৎপাদন কিছুটা কমে যায়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত গরমে ডিম নষ্ট হওয়ার প্রবণতাও বাড়ে। ফলে ওই সময়ে বাজারে সরবরাহের ওপর কিছুটা চাপ তৈরি হতে পারে।
মন্ত্রীর বক্তব্যের দিনই নগরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার খুচরা দোকানে ডিমের হালি প্রায় ৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। কয়েক দিন আগেও তুলনামূলক কম দামে ডিম বিক্রি হলেও বর্তমানে খুচরা বাজারে দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
বাগবাড়ির এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আশরাফুল জানান, মন্ত্রীর বক্তব্যের পরই পাড়ার দোকানগুলোতে ডিমের দাম বেড়ে যায়।
খাসদবির এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হোসেন বলেন, আজ ডিমের হালি কিনেছেন ৫৫ টাকায়। হঠাৎ করেই দাম বেড়েছে ডিমের।
তবে খুচরা বাজারে ডিমের দাম বাড়ার সঙ্গে মন্ত্রীর বক্তব্যের সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। ব্যবসায়ীরা সাধারণত পাইকারি বাজারের দাম, সরবরাহ, পরিবহন খরচ ও স্থানীয় চাহিদার ওপর ভিত্তি করে খুচরা মূল্য নির্ধারণ করেন।
এদিকে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে শুধু সরবরাহ ব্যবস্থাকে দায়ী না করার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, কোনো পণ্যের দাম বাড়লে উৎপাদন, সরবরাহ ও মৌসুমি পরিবর্তনের বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিতে হবে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সেপ্টেম্বরের শেষ সময়ে শীতকালীন সবজি পুরোপুরি বাজারে আসার আগের একটি পর্যায় চলছে। ফলে কিছু সবজির সরবরাহ কম থাকতে পারে। শীতের নতুন সবজি বাজারে উঠতে শুরু করলে পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
ডিমের ক্ষেত্রেও মৌসুমি প্রভাব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কয়েক সপ্তাহ পর শীতকালীন সবজি বাজারে এলে ডিমের চাহিদাতেও পরিবর্তন আসতে পারে। শীতকালে ডিম উৎপাদন ও সংরক্ষণের পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হয়ে আসতে পারে।
সম্প্রতি বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কয়েক দিনের ব্যবধানে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, সরবরাহব্যবস্থা ঠিক থাকলে কোনো পণ্যের দাম কেন বাড়ছে, সেটি অবশ্যই খতিয়ে দেখতে হবে।
তেলের দাম বাড়ানোর দাবির বিষয়েও আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য, দেশের বাজারে সরবরাহ এবং ভোক্তা পর্যায়ের দামের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা যাচাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, নিত্যপণ্যের বাজারে একের পর এক পণ্যের দাম বাড়ায় সীমিত আয়ের মানুষের ওপর চাপ বাড়ছে। ডিমের দামও যদি একইভাবে বাড়তে থাকে, তাহলে আমিষের অন্যতম সহজলভ্য এই খাদ্যটি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।