ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপ ভ্রমণের ক্ষেত্রে ‘শেনজেন ভিসা’ বেশ পরিচিত একটি নাম। স্বল্পমেয়াদি এই ভিসার মাধ্যমে শেনজেন এলাকার ২৯টি দেশে ভ্রমণ করা যায়। সাধারণভাবে একটি বৈধ শেনজেন ভিসা দিয়ে শেনজেন এলাকার একাধিক দেশে আলাদা ভিসা ছাড়াই যাওয়া সম্ভব। তবে ভিসার মেয়াদ, কতবার প্রবেশ করা যাবে এবং ভ্রমণের উদ্দেশ্যসহ নির্ধারিত শর্ত মেনে চলতে হয়।
শেনজেন ভিসা হলো শেনজেন এলাকায় স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের অনুমতি। সাধারণ নিয়মে এই ভিসায় যেকোনো ১৮০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯০ দিন শেনজেন এলাকায় থাকা যায়। পর্যটন, ব্যবসা, পরিবার পরিদর্শনসহ বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের জন্য এই ভিসা ব্যবহার করা হয়।
শেনজেন ভিসা একবার প্রবেশ, একাধিকবার প্রবেশ এবং বিমানবন্দরের ট্রানজিট- এই তিন ধরনের হতে পারে। ভিসার ধরন অনুযায়ী প্রবেশের সুযোগ ও শর্ত আলাদা।
বর্তমানে শেনজেন এলাকার দেশগুলো হলো-
অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, চেকিয়া, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, হাঙ্গেরি, আইসল্যান্ড, ইতালি, লাতভিয়া, লিশটেনস্টাইন, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, স্পেন, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ড।
বুলগেরিয়া ও রোমানিয়া ২০২৪ সালে শেনজেন এলাকার অংশ হয় এবং ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে তাদের সঙ্গে ও তাদের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ স্থলসীমান্তে ব্যক্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়া হয়।
একাধিক শেনজেন দেশে ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে সাধারণত যে দেশে সবচেয়ে বেশি সময় থাকার পরিকল্পনা রয়েছে, সেই দেশের কনস্যুলেট বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হয়। যদি একাধিক দেশে সমান সময় থাকার পরিকল্পনা থাকে, তাহলে সাধারণত প্রথম যে দেশে প্রবেশ করবেন, সেই দেশের কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হয়।
নিজের বৈধ বসবাসের দেশের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা কনস্যুলেটে আবেদন করতে হয়। কোনো কোনো দেশে নির্ধারিত ভিসা সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করা হয়। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা কনস্যুলেটের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।
শেনজেন ভিসার আবেদনে সাধারণত বৈধ পাসপোর্ট, আবেদন ফরম, নির্ধারিত মানের ছবি, ভ্রমণ চিকিৎসা বিমা, থাকার ব্যবস্থা, ভ্রমণের উদ্দেশ্যের প্রমাণ এবং পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হয়। আবেদনকারীর নিজ দেশে ফিরে আসার ইচ্ছার প্রমাণও চাওয়া হতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত কাগজপত্র চাইতে পারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আবেদন জমা দেওয়ার সময় সাধারণত আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়; নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম রয়েছে। পাসপোর্টের মেয়াদও নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হয়।
নির্ধারিত ভ্রমণের সর্বোচ্চ ছয় মাস আগে শেনজেন ভিসার আবেদন করা যায়। সাধারণ নিয়মে ভ্রমণের অন্তত ১৫ দিন আগে আবেদন জমা দিতে হয়। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় আবেদন নিষ্পত্তিতে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে। তবে বিস্তারিত যাচাই বা অতিরিক্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হলে তা ৪৫ দিন পর্যন্ত বাড়তে পারে।
বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য শেনজেন ভিসার সাধারণ ফি ৯০ ইউরো। ৬ বছর থেকে ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য ফি ৪৫ ইউরো। ৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের সাধারণত ভিসা ফি দিতে হয় না। ভিসা সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে আবেদন করলে এর সঙ্গে অতিরিক্ত সেবা ফি যুক্ত হতে পারে।
শেনজেন ভিসা মূলত স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের জন্য। এই ভিসায় যেকোনো ১৮০ দিনের সময়সীমায় সর্বোচ্চ ৯০ দিন থাকা যায়। একাধিকবার প্রবেশের সুযোগ থাকলেও মোট অবস্থানের সীমা ৯০ দিনই থাকে।
৯০ দিনের বেশি থাকা, দীর্ঘমেয়াদি পড়াশোনা, কাজ বা বসবাসের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের জাতীয় দীর্ঘমেয়াদি ভিসা বা বসবাসের অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে।
শেনজেন ভিসা থাকলেই যে সীমান্তে প্রবেশ নিশ্চিত—বিষয়টি এমন নয়। ভ্রমণকারীকে ভিসার শর্ত মেনে চলতে হয় এবং সীমান্ত কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় যাচাই করতে পারে। তাই ভিসার মেয়াদ, অনুমোদিত প্রবেশসংখ্যা, অবস্থানের সর্বোচ্চ সময় এবং ভ্রমণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
শেনজেন এলাকার ২৯টি দেশে স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের জন্য একই ভিসা কাঠামো কার্যকর থাকলেও প্রতিটি ভ্রমণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের কনস্যুলেট ও সীমান্ত কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।