ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ মানেই নতুন স্বপ্ন, নতুন হিসাব আর ক্রিকেটের মহামঞ্চে নিজেদের গল্প লেখার অপেক্ষা। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সূচি প্রকাশের পর বাংলাদেশের সামনে সেই গল্পের পথটাও এখন স্পষ্ট। শুরুটা হবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, এরপর একে একে নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ও বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসা একটি দলের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় বসতে যাওয়া ক্রিকেটের এই মহাযজ্ঞে বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচই হয়ে উঠতে পারে পরের ধাপে যাওয়ার সিঁড়ি।
১৪ দল নিয়ে আয়োজিত ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ শুরু হবে ৭ অক্টোবর। কেপটাউনে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠবে গ্রুপ পর্বের। এর আগে ২ অক্টোবর শুরু হবে সুপার সিরিজ। বিশ্বকাপের ফাইনাল ২১ নভেম্বর জোহানেসবার্গে।
বাংলাদেশ রয়েছে ‘বি’ গ্রুপে। গ্রুপে তাদের সঙ্গী নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা এবং বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসা একটি দল।
বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে ৮ অক্টোবর নামিবিয়ার উইন্ডহুকে। প্রথম ম্যাচেই প্রতিপক্ষ ২০১৯ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড।
এরপর ১২ অক্টোবর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। ১৬ অক্টোবর শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে তারা। ১৯ অক্টোবর গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ২৩ অক্টোবর বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসা দলের বিপক্ষে শেষ গ্রুপ ম্যাচ।
‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গে থাকছে- নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসা একটি দল।অন্যদিকে ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, জিম্বাবুয়ে ও বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসা একটি দল।
২০২৭ বিশ্বকাপের কাঠামোও এবারের আসরকে আলাদা মাত্রা দিচ্ছে। ছয় দলের দুই গ্রুপ থেকে শীর্ষ তিনটি করে দল যাবে সুপার সেভেন পর্বে। তবে চতুর্থ দলগুলোর জন্যও থাকবে শেষ সুযোগ। দুই গ্রুপের চতুর্থ স্থানে থাকা দলের মধ্যে যে দল বেশি পয়েন্ট সংগ্রহ করবে, তারা সপ্তম দল হিসেবে জায়গা করে নেবে সুপার সেভেনে।
অর্থাৎ গ্রুপ পর্বে একটি দল চতুর্থ হলেও বিশ্বকাপের পথ সেখানেই শেষ হয়ে যাচ্ছে না।
গ্রুপ পর্বের কোনো পয়েন্ট সুপার সেভেন পর্বে বহন করা হবে না। ২৫ অক্টোবর থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিটি দল খেলবে ছয়টি করে ম্যাচ।
সমর্থকদের সুবিধার জন্য সুপার সেভেনের কয়েকটি অবস্থান আগেই নির্ধারণ করে দিয়েছে আইসিসি। ভারত থাকবে এ১, অস্ট্রেলিয়া এ২, পাকিস্তান এ৩, ইংল্যান্ড এবি৪, নিউজিল্যান্ড বি১, দক্ষিণ আফ্রিকা বি২ এবং শ্রীলঙ্কা বি৩ হিসেবে।
এই নির্ধারিত দলগুলোর কোনোটি সুপার সেভেনে জায়গা না পেলে তাদের নির্ধারিত অবস্থানটি দখল করবে সেই দল, যে তাদের জায়গা নিয়ে পরের পর্বে উঠবে।
ধরা যাক, বাংলাদেশ সুপার সেভেনে উঠল, কিন্তু শ্রীলঙ্কা উঠতে পারল না। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বি৩-এর অবস্থান পাবে। আর ওই অবস্থানের সূচি অনুযায়ী ২৫ অক্টোবর জোহানেসবার্গে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলতে হবে বাংলাদেশকে।
সুপার সেভেন শেষে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ চার দল জায়গা করে নেবে সেমিফাইনালে। প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে পয়েন্ট তালিকার প্রথম ও চতুর্থ দল। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে লড়বে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দল।
প্রথম সেমিফাইনাল ১৭ নভেম্বর কেপটাউনে এবং দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ১৮ নভেম্বর তশোয়ানেতে। দুই ম্যাচের জন্যই রাখা হয়েছে রিজার্ভ ডে।
এরপর ২১ নভেম্বর জোহানেসবার্গে বসবে বিশ্বকাপের শেষ মহারণ। ফাইনালের জন্যও রয়েছে এক দিনের রিজার্ভ ডে।
১৪ দলের লড়াই, ১২ ভেন্যু
এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেবে ১৪টি দল। আয়োজক দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে সরাসরি জায়গা পেয়েছে। ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের র্যাঙ্কিং অনুযায়ী আরও আটটি দল সরাসরি নিশ্চিত করেছে বিশ্বকাপের টিকিট।
বাকি চার দল আসবে বাছাইপর্ব থেকে। বাছাইপর্বের চ্যাম্পিয়ন দল সরাসরি গ্রুপ পর্বে খেলবে। অন্য তিন দল খেলবে সুপার সিরিজে। সেখানে তিন দলের লিগ শেষে শীর্ষ দলটি গ্রুপ পর্বের একটি জায়গা পাবে।
বিশ্বকাপের ম্যাচ হবে মোট ১২টি ভেন্যুতে। নামিবিয়া ক্রিকেট গ্রাউন্ডে হবে সুপার সিরিজের তিনটি ও গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ। বাকি ম্যাচগুলো হবে দক্ষিণ আফ্রিকার আটটি ও জিম্বাবুয়ের তিনটি ভেন্যুতে।
ইংল্যান্ড দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ-যাত্রা। এরপর নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা-প্রতিটি ম্যাচই হবে আলাদা পরীক্ষা। গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারলে সামনে অপেক্ষা করবে আরও ছয়টি ম্যাচের কঠিন পথ।
বিশ্বকাপের মঞ্চে শেষ হাসি কে হাসবে, সেই উত্তর মিলবে নভেম্বরে। তবে বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি হলো প্রথম ধাপটি পেরোনো। আর সেই পথের প্রথম দরজায় অপেক্ষা করছে ইংল্যান্ড।