প্রকাশিত : ০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:০০ (বৃহস্পতিবার)
দ্রুততম সেবা নিশ্চিতে প্রবাসী এক্সপ্রেস সার্ভিস চালু করছে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ

ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসীদের নাগরিক সেবা আরও সহজ ও দ্রুত করতে সিলেটে প্রথমবারের মতো চালু হচ্ছে ইলেকট্রনিক কনস্ট্রাকশন পারমিটিং সিস্টেম (ইসিপিএস)। এই ব্যবস্থায় বিদেশে বসেই ঘরে বসে নকশা অনুমোদনসহ নির্মাণসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবার জন্য আবেদন করা এবং আবেদনের অগ্রগতি ট্র্যাক করা যাবে। পাশাপাশি প্রবাসীদের জন্য থাকছে বিশেষ ‘প্রবাসী এক্সপ্রেস সার্ভিস’। এর মাধ্যমে এক মাসের মধ্যে নকশা অনুমোদনসহ অন্যান্য সেবা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক)।

শনিবার দুপুরে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদি।

তিনি বলেন, নাগরিক সেবা সহজীকরণ ও হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যেই ইসিপিএস চালু করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সেবাপ্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার যেতে হবে না। অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পাশাপাশি আবেদনের বর্তমান অবস্থাও জানা যাবে।

বিশেষ করে প্রবাসীদের কথা বিবেচনায় রেখে ‘প্রবাসী এক্সপ্রেস সার্ভিস’ চালু করা হচ্ছে জানিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, বিদেশে অবস্থানরত সিলেটের প্রবাসীরা যাতে দেশে না এসেও নকশা অনুমোদনসহ প্রয়োজনীয় সেবা নিতে পারেন, সে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করলে এক মাসের মধ্যে এসব সেবা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি আরও জানান, আগামী ৫ অক্টোবর সিলেটে প্রথমবারের মতো বিশ্ব বসতি দিবস উদযাপন করবে সিউক। এ উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত থাকবেন।

প্রথম দিনের কর্মসূচিতে থাকবে র‍্যালি, আলোচনা সভা, ইসিপিএস উদ্বোধন, শিক্ষার্থীদের নিয়ে আইডিয়া প্রতিযোগিতা, মডেল প্রদর্শনী, স্টল ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী।

পরদিন নগরের দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, টেকসই নগরায়ন ও আবাসনবিষয়ক সেমিনার, আইডিয়া ও আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত মূল্যায়ন, পুরস্কার বিতরণ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

বিশ্ব বসতি দিবসের কর্মসূচিতে আধুনিক, পরিকল্পিত ও পর্যটনবান্ধব সিলেট নগর গড়ে তোলার বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

এ ছাড়া সিলেটে প্রথমবারের মতো আবাসন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে পরিকল্পিত নগরায়ন, আবাসন উন্নয়ন এবং নাগরিক সেবাকে আরও সমন্বিত করার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছে সিউক।

প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটে নতুন এই ডিজিটাল সেবা চালু হলে বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের জন্য নকশা অনুমোদন ও নির্মাণসংক্রান্ত সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।