ছবি: ইমজা নিউজ
সিলেট জেলা ও মহানগর মিলিয়ে এবার ৬৩৬টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছরের তুলনায় এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ১৮টি। ২০২৫ সালে সিলেট জেলা ও মহানগর এলাকায় ৬১৮টি মন্দির-মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সিলেট জেলা ও মহানগর শাখা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
পরিষদ জানায়, এবার সিলেট জেলায় সর্বজনীন ৪৪৮টি এবং পারিবারিক ২৬টিসহ মোট ৪৭৪টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে, সিলেট মহানগর এলাকায় সর্বজনীন ১৪৬টি ও পারিবারিক উদ্যোগে ১৬টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মহানগরে পূজা হবে ১৬২টি মণ্ডপে।
আগামী ১৮ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব।
গত বছর সিলেট মহানগরে সর্বজনীন ১৪২টি ও পারিবারিক ২০টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়। জেলায় সর্বজনীন ৪২৭টি এবং পারিবারিক ২৯টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন ছিল। অর্থাৎ গত বছর জেলা ও মহানগর মিলিয়ে মোট ৬১৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
এদিকে, শুক্রবার দুপুরে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট জেলা ও মহানগর শাখার বার্ষিক প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে নিরাপত্তা, সড়ক সংস্কার, পানি সরবরাহসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী সিলেটে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা আয়োজন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সিলেট সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নগরী। অতীতে যেভাবে এখানে সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় ছিল, ভবিষ্যতেও তা অক্ষুণ্ন থাকবে। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে সবাইকে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে সরকার আন্তরিক। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং পূজাকে আরও উৎসবমুখর করতে এবার সহযোগিতাও বাড়ানো হয়েছে। কেউ যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বা শান্তি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পূজামণ্ডপগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তার জন্য নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে প্রতিটি মণ্ডপে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সার্বক্ষণিক স্বেচ্ছাসেবক রাখতে হবে।
সিসিকের পক্ষ থেকে এবার পূজার বরাদ্দ বাড়ানোর কথা জানিয়ে প্রশাসক বলেন, পূজা উপলক্ষে নগরের ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো মেরামত করা হবে। মণ্ডপগুলোতে প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহও নিশ্চিত করা হবে। এরপরও কোনো সমস্যা দেখা দিলে সিটি করপোরেশনকে জানালে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিলেট জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোপীকা শ্যাম পুরকায়স্থ চয়নের সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার দাস ও মহানগর সাধারণ সম্পাদক চন্দন দাশ যৌথভাবে সভা সঞ্চালনা করেন।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সিলেটের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. জাবের সাদেক, পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা, ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মলয় পুরকায়স্থ এবং জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট বিজয় কৃষ্ণ বিশ্বাস।
প্রতিনিধি সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন মহানগর শাখার সভাপতি সুব্রত দেব। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা থেকে পাঠ করেন জেলা শাখার সদস্য সঞ্জয় কুমার নাথ এবং শোক প্রস্তাব পাঠ করেন জেলা শাখার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক প্রমোদ রঞ্জন দাস।
সভায় জেলা ও মহানগর শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন জেলা শাখার সহসভাপতি ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক রজত কান্তি ভট্টাচার্য, ঐক্য পরিষদ জেলা সাধারণ সম্পাদক কৃপেশ পাল, মহানগর সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার দেব, জেলা সহসভাপতি অ্যাডভোকেট রঞ্জন ঘোষ, মহানগর সহসভাপতি বিশ্বজিৎ গুণ, জেলা সহসভাপতি কাজল কান্তি দাস, উপদেষ্টা অপূর্ব শর্মা, মহানগর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নন্দন চন্দ্র পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক অরুণ কুমার বিশ্বাস, সদস্য উষা দাসসহ বিভিন্ন উপজেলা ও থানা শাখার নেতারা।
পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি এবং সিলেট জেলা ও মহানগর শাখার বর্ধিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে ১৮টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জেলা ও মহানগর শাখার যৌথ উদ্যোগে ১১ সদস্যের একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। পূজা কমিটিগুলোকে সার্বক্ষণিকভাবে মনিটরিং সেলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সভায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে একদিন ছুটি বাড়িয়ে দেওয়ায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা।