প্রকাশিত : ০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:০৭ (রবিবার)
হবিগঞ্জে সংস্কৃতি চর্চা আরও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা

ছবি: ইমজা নিউজ

সুস্থ ধারার সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। তিনি বলেছেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক বিকাশ ঘটাতে হবে। শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা মানুষকে সৃজনশীল ও মানবিক করে গড়ে তোলে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টায় হবিগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে তিন দিনব্যাপী চারুকলা প্রদর্শনী, কর্মশালা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সুস্থ ধারার সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে আমাদের ছেলে-মেয়েদের ফিরিয়ে আনতে হবে। লেখাপড়ার পাশাপাশি তাদের সাংস্কৃতিক বিকাশ ঘটাতে হবে। একজন ভালো মানের শিল্পী কখনো অন্যায় কাজ করতে পারে না।”

তিনি বলেন, সংস্কৃতি শুধু আনন্দ-বিনোদনের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতিরও সম্পর্ক রয়েছে। চিত্রশিল্পীদের শিল্পকর্মের বড় বাজার রয়েছে। তাই শিল্প-সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি এটিকে সৃজনশীল অর্থনীতির অংশ হিসেবেও দেখতে হবে।

হবিগঞ্জের সাংস্কৃতিক পরিবেশের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এখানকার কিশোর-তরুণরা গান করছে, নাচছে, কবিতা পড়ছে এবং রংতুলিতে ছবি আঁকছে। নতুন প্রজন্মকে ইতিবাচক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রাখার মাধ্যমে তাদের বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, হবিগঞ্জের নয়টি উপজেলায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি সংস্কৃতির অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে ভবিষ্যতে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

তিনি বলেন, সারা বছর দেশজুড়ে সংস্কৃতি চর্চা অব্যাহত রাখতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগামী শীতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজন করা হবে। এসব আয়োজনে আবহমান গ্রামবাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, হবিগঞ্জে না এলে এখানকার ছেলে-মেয়েরা শিল্প-সংস্কৃতিতে কতটা সমৃদ্ধ, তা কাছ থেকে দেখার সুযোগ হতো না। তাঁর বাসায় একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিমের একটি বড় শিল্পকর্ম রয়েছে উল্লেখ করে তিনি শিল্পকর্মটির রং ও বিন্যাসের মাধ্যমে শিল্পের সৌন্দর্য ও সৃষ্টিশীলতা বোঝার অভিজ্ঞতার কথা জানান।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের শিল্পীদের সৃষ্টিকর্মের যথেষ্ট বাণিজ্যিক মূল্য রয়েছে। কোনো কোনো শিল্পকর্মের মূল্য লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। ফলে শিল্প-সংস্কৃতিকে সৃজনশীল অর্থনীতির দৃষ্টিভঙ্গিতে এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

এর আগে ‘রং তুলিতে হবিগঞ্জের প্রকৃতি ও পর্যটন’ শীর্ষক আর্টক্যাম্পের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী। ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে উদ্বোধনের পর তিনি নিজেও রংতুলি হাতে ক্যানভাসে ছবি আঁকেন। পরে শিল্পকলা একাডেমির প্রদর্শনী গ্যালারি ঘুরে শিক্ষার্থী ও নবীন শিল্পীদের চিত্রকর্ম ও আলোকচিত্র দেখেন।

তিন দিনব্যাপী আয়োজনে ২৪ জন চারুশিল্পী আর্টক্যাম্পে অংশ নেন। আয়োজকেরা জানান, চিত্রকর্ম বিভাগে জমা পড়া ৭০০টি চিত্রকর্মের মধ্যে ৪৩০টি প্রদর্শনীর জন্য নির্বাচিত হয়। এর মধ্যে ২৫ জনকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। আলোকচিত্র বিভাগে জমা পড়া ৮৭টি ছবির মধ্যে ১৫টি প্রদর্শনীর জন্য নির্বাচিত হয় এবং পাঁচজনকে পুরস্কার দেওয়া হয়।

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রভাস কুমার সিংহ, হবিগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ, সাহিত্যিক ও গবেষক জাহানারা বেগম, হবিগঞ্জ জেলা জাসাসের সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী এবং দৈনিক ইত্তেফাকের সিনিয়র চিত্রশিল্পী অভিজিৎ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাশ গুপ্ত।

অনুষ্ঠানে হবিগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক মঈনুল হক, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী এনামুল হক, জেলা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি তাহমিনা বেগম গিনিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

পরে প্রধান অতিথি বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। নবীন-প্রবীণ শিল্পী, শিক্ষার্থী ও শিল্পপ্রেমীদের অংশগ্রহণে তিন দিনব্যাপী এ আয়োজন উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয়।