প্রকাশিত : ০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৩৭ (সোমবার)
চুনারুঘাটে ‘বৈচিত্র্যের উৎসবে’ ফুটে উঠল নানা জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতি

সাহিত্য, সংস্কৃতি ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্যের সমন্বয়ে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘বৈচিত্র্যের উৎসব’। চুনারুঘাট সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ উৎসবে পাহাড় ও সমতলের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর নৃত্য, লোকসংস্কৃতি, শিল্প ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়।

১ ও ২ অক্টোবর চুনারুঘাট উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত উৎসবের প্রতিপাদ্য ছিল ‘শিল্প-সংস্কৃতি-সংগ্রাম আমাদের মুক্তির অভিযাত্রা’। শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন, পুতুল তৈরি, মুখ রাঙানো, ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, লোকসংগীত, নাটক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় দুই দিনজুড়ে উৎসবস্থলে ছিল প্রাণবন্ত পরিবেশ।

চুনারুঘাট সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদের সভাপতি ও দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক সালেহ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল, জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাশেদুল হক চৌধুরী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, চুনারুঘাটের সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। চুনারুঘাটের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার কথাও বলেন তিনি।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম চুনারুঘাট সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি এ ধরনের আয়োজনকে দেশের অন্যান্য এলাকার জন্যও অনুকরণীয় হতে পারে বলে উল্লেখ করেন।

উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনা। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বাহা ও মণিপুরী নৃত্যের পাশাপাশি ত্রিপুরাদের হোজাগিরি, সিলেটের ধামাইল, ঝুমুর ও সমবেত নৃত্য পরিবেশন করা হয়। এতে স্থানীয় সংস্কৃতির পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নিজস্ব ঐতিহ্যও দর্শকদের সামনে উঠে আসে।

প্রথম দিন শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পুতুল তৈরির আয়োজন করা হয়। পরে কেক কাটা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শেষ হয়।

দ্বিতীয় দিন ‘এসো রঙিন করি মুখ’ কর্মসূচির পর জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণের পর সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ হয় কবি চন্দ্রাবতী রচিত নাটক ‘মলুয়া’। পরে শিল্পী লাভলী দেবের সংগীত পরিবেশনা ও গাজীর গীতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দুই দিনের উৎসব।

অনুষ্ঠানে চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরী, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, হবিগঞ্জ জজকোর্টের সরকারি কৌঁসুলি মোহাম্মদ আবদুল হাই, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এনামুল হক সেলিম, চুনারুঘাট পৌরসভার সাবেক মেয়র নাজিম উদ্দিন সামছুসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনজীবী, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী, সংগঠনের সদস্য ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

১৯৮৯ সালের ১ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে চুনারুঘাট সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ। ৩৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবারের আয়োজনের মধ্য দিয়ে সংগঠনটি সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে একই মঞ্চে তুলে ধরেছে বলে আয়োজকেরা জানান।