প্রকাশিত : ০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৩০ (সোমবার)
ভারতে ভোটার তালিকা নিয়ে বিক্ষোভ, নির্বাচন কমিশন প্রধানের পদত্যাগ দাবি

ছবি: সংগৃহীত

ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিবাদ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি ও মুম্বাইয়ে বিক্ষোভ করেছেন হাজারো তরুণ ও বিরোধীদলীয় সমর্থক। টানা তৃতীয় দিনের মতো রোববারও চলা বিক্ষোভে কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় পরিবর্তনের মাধ্যমে লাখ লাখ যোগ্য ভোটারকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)কে রাজনৈতিকভাবে সুবিধা দেবে। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

মুম্বাইয়ে আয়োজিত বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন বিরোধীদলীয় নেতা রাজ ঠাকরে ও উদ্ধব ঠাকরে। বিক্ষোভকারীরা ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া বাতিল এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি জানান।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যার শুরুতেই নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হতে শুরু করেন। এ সময় পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে। পরে কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে আটক ব্যক্তিদের বহনকারী একাধিক গাড়ি ঘিরে ফেলেন। কেউ কেউ গাড়ির ওপর উঠে পড়েন এবং যান চলাচল বন্ধ করতে রাস্তায় শুয়ে পড়েন।

জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারী আহনা সিং অভিযোগ করেন, পুলিশ তাঁকে চুল ধরে টেনে নিয়ে গেছে। তাঁর ভাষায়, পুলিশ ‘বর্বরতার আশ্রয়’ নিচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে ই-মেইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে রয়টার্সের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

গত দুই দিন ধরেও দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের সমাবেশে বাধা দিয়ে আসছে পুলিশ। একই সঙ্গে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে বাসে করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার ও শনিবার আটক হওয়া কয়েকজনকে পরে ছেড়ে দেওয়া হলেও রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে বড় ধরনের জনসমাবেশের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে অনেকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দিল্লি পুলিশ।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, গত বছর শুরু হওয়া দেশব্যাপী ভোটার তালিকা সংশোধন অভিযানের মাধ্যমে লাখ লাখ যোগ্য ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, এর ফলে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিজেপি সুবিধা পেতে পারে।

বিরোধী নেতা রাজ ঠাকরে বলেন, ক্ষমতাসীন দল যেভাবে ক্ষমতার প্রয়োগ করছে, তাতে তাঁরা ক্ষুব্ধ। কারা ক্ষমতায় থাকবে আর কারা বিরোধী দলে থাকবে, তা নির্ধারণের অধিকার জনগণের- নির্বাচন কমিশনের নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে ভারতের নির্বাচন কমিশনের দাবি, ভুয়া, মৃত ও অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম বাদ দিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার কমিশন ভুলবশত বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের পুনরায় নিবন্ধনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নতুন নির্দেশনাও দিয়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তাঁর পদত্যাগের দাবি কিংবা চলমান আন্দোলন নিয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।

বিরোধীদের ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্যে আগামী দিনগুলোতে আরও কয়েকটি কর্মসূচির ঘোষণা এসেছে। ভারতের বিরোধী দলগুলোর একটি জোট গণতন্ত্র রক্ষার বার্তা নিয়ে আগামী মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রার পরিকল্পনা করছে।

এ ছাড়া তরুণদের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টি আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লিতে বড় সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে। নরেন্দ্র মোদির ১২ বছরের শাসনামলে তরুণদের পক্ষ থেকে আসা ধারাবাহিক প্রতিবাদের অংশ হিসেবেই এ সমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এর আগে গত জুলাইয়ে জাতীয় মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়েছিল। ওই আন্দোলনের মুখে দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। ঘটনাটিকে নরেন্দ্র মোদির তৃতীয় মেয়াদের সরকারের অন্যতম বড় রাজনৈতিক সংকট হিসেবে দেখা হয়েছিল।

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নতুন করে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভও আগামী দিনগুলোতে আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।