প্রকাশিত : ০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৩২ (মঙ্গলবার)
ইংল্যান্ড থেকে বোমারু বিমান সরিয়ে নিল যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি থেকে সব মার্কিন বোমারু বিমান সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গ্লুচেস্টারশায়ারের এই ঘাঁটির কাছে সন্দেহজনক যানবাহন নিয়ে একটি ঘটনার তদন্ত করছে ব্রিটিশ কাউন্টার-টেরর পুলিশ।

রোববার এক মার্কিন সরকারি কর্মকর্তা জানান, ফেয়ারফোর্ড -এ থাকা সব বোমারু বিমান যুক্তরাষ্ট্রে তাদের নিজ নিজ ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে কেন বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কারণ জানায়নি।

তবে ব্রিটিশ সরকারি সূত্রগুলো বলছে, ২৭ সেপ্টেম্বর আরএএফ ফেয়ারফোর্ড -এর কাছে ঘটে যাওয়া ঘটনার সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের সম্পর্ক থাকতে পারে। ওই দিন বিমানঘাঁটির কাছে তিনটি “সন্দেহজনক যানবাহন” দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

ছয়জন গ্রেপ্তার

ঘটনার পর প্রথমে ২৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা সবাই লন্ডনের ব্রিটিশ নাগরিক। প্রথমে বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহও আনা হয়।

তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ পরে পাঁচজনকেই জামিনে ছেড়ে দেয়। পুলিশ জানায়, এটি ছিল একটি তদন্তমূলক সিদ্ধান্ত এবং অভিজ্ঞতা ও তদন্তের কৌশল বিবেচনা করেই তাদের জামিন দেওয়া হয়েছে।

এরপর বৃহস্পতিবার লন্ডনে ২৫ বছর বয়সী আরও একজন ব্রিটিশ-ইরানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকেও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে আটক করা হয়েছিল। শনিবার পুলিশ জানায়, তাকেও জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

ইরানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ

ঘটনার কয়েক দিন পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে ইরানের জড়িত থাকার “জোরালো ইঙ্গিত” রয়েছে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি।

ইরান অবশ্য এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে।

এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও Fox News-কে বলেছিলেন, ঘটনাটির পেছনে “স্পষ্টভাবে কোনো বিদেশি পক্ষের হাত” রয়েছে। তবে তিনি তখনও কোনো দেশের নাম বলেননি।

কেন গুরুত্বপূর্ণ আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ?

RAF Fairford কয়েক দশক ধরে মার্কিন বিমানবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এখান থেকে মার্কিন বোমারু বিমান মধ্যপ্রাচ্যে গিয়েছে।

যুক্তরাজ্য এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে এই ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল।

জুলাই মাসে ইরান সতর্ক করে বলেছিল, ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহৃত যেকোনো ঘাঁটি তাদের বাহিনীর বৈধ লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

ট্রাম্পের মন্তব্য

পাঁচ সন্দেহভাজনকে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ জামিনে ছেড়ে দেওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ওই ব্যক্তিদের সম্পর্কে “সবকিছু জানে” এবং তারা মার্কিন কর্তৃপক্ষের হাতে থাকলে তাদের মুক্তি দেওয়া হতো না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এ ঘটনায় যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে “খুব ঘনিষ্ঠভাবে” কাজ করেছে।

এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মার্কিন বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।

মার্কিন কর্তৃপক্ষও বলেছে, এটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং সামরিক ও অপারেশনাল পর্যায়ে নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত। এ বিষয়ে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা তাদের ব্রিটিশ সমকক্ষদের জানিয়েছেন।