ছবি: সংগৃহীত
উয়েফা নেশনস লিগে ইসরায়েলের বিপক্ষে উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের পর আয়ারল্যান্ডের প্রধান কোচ হেইমির হলগ্রিমসন অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েলি দল ম্যাচের শুরু থেকেই তার দলকে ‘ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছে’।
রোববার সার্বিয়ায় দর্শকশূন্য মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। ম্যাচের বিরতির সময় দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আয়ারল্যান্ডের অ্যাথলেটিক পারফরম্যান্স বিভাগের প্রধান ড্যামিয়েন ডয়েলের গায়ে ইসরায়েলি দলের একজন খেলোয়াড় থুতু ছুড়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
টেলিভিশনের ফুটেজে খেলোয়াড়রা মাঠ থেকে ড্রেসিংরুমের দিকে যাওয়ার সময় একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘সে আমার গায়ে থুতু ছুড়েছে।’
ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে চাইলে হলগ্রিমসন বলেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে বেশি কথা বলতে চান না। তবে তার মতে, দুই দলের সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতেই উত্তেজনা অনেক বেশি ছিল।
তিনি বলেন, থুতু ছোড়ার অভিযোগ তিনি নিজে দেখেননি। তবে ঘটনাটি অন্য সব ঘটনার মতোই পর্যালোচনা করা হবে।
হলগ্রিমসনের ভাষ্য, ‘ম্যাচের শুরু থেকেই আমার মনে হয়েছে তারা আমাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছিল। তবে আমাদের খেলোয়াড়রা শান্ত থাকতে পেরেছে-এ জন্য আমি তাদের কৃতিত্ব দিই।’
তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যেতে পারত যেখানে অনেক হলুদ ও লাল কার্ড দেখাতে হতো। কিন্তু আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়রা নিজেদের আবেগ নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন।
ইসরায়েলি কোচও ঘটনা দেখেননি
বিরতির সময়ের ঘটনা সম্পর্কে ইসরায়েলের কোচ রান বেন-শিমন বলেন, তিনি কিছুই দেখেননি।
তিনি জানান, বিরতির সময় তিনি নিজের স্টাফদের সঙ্গে ড্রেসিংরুমে ছিলেন। পরে সুযোগ পেলে তিনি ঘটনাটি খতিয়ে দেখে এ বিষয়ে মন্তব্য করবেন।
ম্যাচের আগে থেকেই উত্তেজনা
দুই দলের মধ্যে উত্তেজনা অবশ্য ম্যাচের দিনই শুরু হয়নি। শনিবার আয়ারল্যান্ডের ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনও হঠাৎ শেষ হয়ে যায়।
এক ইসরায়েলি সাংবাদিক গত সপ্তাহের ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ নিয়ে হলগ্রিমসনকে প্রশ্ন করেন। ওই ম্যাচে আয়ারল্যান্ড ৩-০ গোলে জয় পেয়েছিল।
প্রশ্নটি করার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আয়ারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (FAI) যোগাযোগ ব্যবস্থাপক কিয়েরান ক্রাউলি সংবাদ সম্মেলন শেষ করে দেন। তিনি অভিযোগটিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেন।
এর আগে FAI তদন্ত শুরু করেছিল, গত ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড অ্যাডাম ইদাহ ইসরায়েলি সমর্থকদের কাছ থেকে বর্ণবাদী গালাগালির শিকার হয়েছিলেন কি না।
এছাড়া আয়ারল্যান্ডের মিডফিল্ডার জেসন মলুমবি ম্যাচ চলাকালে কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করেছিলেন যে, গ্যালারিতে থাকা কয়েকজন ইসরায়েলি সমর্থকের কাছ থেকে তিনি আপত্তিকর স্লোগান শুনেছেন।
মলুমবিকে লক্ষ্য করা হয়েছিল কি না
ম্যাচে মলুমবিকে ইসরায়েলি খেলোয়াড়রা ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্য করেছিলেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইসরায়েলের কোচ বেন-শিমন বলেন, বিষয়টি “ব্যক্তিগত কিছু ছিল না”।
তিনি বলেন, তার দল প্রতিপক্ষের কোনো খেলোয়াড়কে ইচ্ছাকৃতভাবে আহত করার জন্য আক্রমণাত্মক খেলতে নির্দেশ দেয়নি। তার মতে, ফুটবলে আগ্রাসীভাবে খেলা কখনো কখনো স্বাভাবিক হলেও কাউকে চোট দেওয়া তাদের উদ্দেশ্য নয়।
ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধ ঘিরে বিতর্ক
আয়ারল্যান্ড ও ইসরায়েলের এই দুই ম্যাচ শুরু থেকেই রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের মধ্যে ছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে নেশনস লিগের গ্রুপ বি৩-তে দুই দল একই গ্রুপে পড়ার পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে ম্যাচ দুটি বয়কটের দাবি ওঠে।
চলমান ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধের প্রতিবাদে ‘স্টপ দ্য গেম’ নামে একটি প্রচারণাও শুরু হয়। Irish Sport for Palestine নামের একটি সংগঠন এই প্রচারণার আয়োজন করে। তারা ডাবলিনে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আয়ারল্যান্ডের ম্যাচের আগে ও চলাকালে বিক্ষোভ করে।
আয়ারল্যান্ডের গোলরক্ষক গ্যাভিন বাজুনু আগে বলেছিলেন, এমন পরিস্থিতিতে ম্যাচে অংশ নেওয়া তার জন্য “ভুল” হবে। সে কারণে তিনি নিজেকে ম্যাচ থেকে সরিয়ে নেন।
তবে আয়ারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন শেষ পর্যন্ত দুই ম্যাচই খেলার সিদ্ধান্ত নেয়।
দুই ম্যাচেই খেলোয়াড়রা ম্যাচ শুরুর আগে প্রচলিত আনুষ্ঠানিকতা পালন করেননি। ইসরায়েলের জাতীয় সংগীত বাজানোর সময় আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়রা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
ম্যাচের মাঠের উত্তেজনার পাশাপাশি এই রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের কারণে আয়ারল্যান্ড-ইসরায়েল ফুটবল দ্বৈরথ এখন বিশেষভাবে আলোচিত হয়ে উঠেছে।