প্রকাশিত : ০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৩০ (মঙ্গলবার)
চুনারুঘাটে আধাঘণ্টার ব্যবধানে দুই রোগীর মৃত্যু, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আধাঘণ্টার ব্যবধানে দুই রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় ভুল চিকিৎসা ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে।

রোববার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দুই রোগীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান, ব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্বশীলদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

মৃতদের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের নার্সদের ভুল চিকিৎসা ও দায়িত্বে অবহেলার কারণেই তাদের স্বজনদের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ করেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং চিকিৎসাসেবায় কোনো ধরনের অবহেলা হয়েছিল কি না, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২ অক্টোবর) শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন মিরাশি ইউনিয়নের আসলা গ্রামের আকবর আলীর মেয়ে তানজিলা আক্তার (২০)। শনিবার তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছিল। তবে রোববার রাতে আবার তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হলে স্বজনেরা দায়িত্বে থাকা সেবিকাকে দ্রুত অক্সিজেন দেওয়ার অনুরোধ জানান।

স্বজনদের অভিযোগ, সেবিকা তাদের কথা গুরুত্ব না দিয়ে অবহেলা করেন। অক্সিজেন না পেয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তানজিলা।

হাসপাতালে থাকা অন্য রোগী ও স্বজনদের দাবি, তানজিলার মৃত্যুর প্রায় এক ঘণ্টা আগে একই এলাকায় সময়মতো অক্সিজেন না পেয়ে আরও এক রোগীর মৃত্যু হয়েছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরেই চিকিৎসাসেবার মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার (টিএইচও) মোজাম্মেল হোসেনের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অব্যবস্থাপনা ও হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ঠিকভাবে পরিচালনা না করার অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের কারণে সরকারি এই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ওপর মানুষের আস্থা কমছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

স্বজন ও স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা যথাযথভাবে না পাওয়ায় অনেক রোগীকেই আশপাশের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হয়। এতে রোগীরা অনেকটা পার্শ্ববর্তী ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতাল থেকে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগীদের বাইরে পাঠানোর প্রবণতায় রোগীদের ভোগান্তির পাশাপাশি বাড়তি অর্থ ব্যয়ের চাপও তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার কথা থাকলেও কেন রোগীদের বারবার বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে? হাসপাতালের ভেতরেই পর্যাপ্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে রোগীদের এই নির্ভরশীলতা অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।

রোববার রাতে চিকিৎসাধীন দুই রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই মাত্র আধাঘণ্টার ব্যবধানে তাদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তারা চিকিৎসক ও নার্সদের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পাশাপাশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও গাফিলতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করে।

চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (টিএইচও) মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘দুই রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তবে দুই রোগীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, চিকিৎসায় কোনো ভুল বা অবহেলা হয়েছিল কি না এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা কতটা-এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের দাবি, শুধু সাম্প্রতিক দুই মৃত্যুর ঘটনা নয়, চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্বিক চিকিৎসাসেবা, ব্যবস্থাপনা, রোগীদের বাইরে পরীক্ষা করাতে পাঠানোর প্রবণতা এবং টিএইচওর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনা হোক।