ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের বিদেশি কর্মীদের জন্য ফের বড় পরিসরে শ্রমবাজার উন্মুক্ত করছে ইতালি। দেশটির ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের ‘ডিক্রেতো ফ্লুসি’ কর্মসূচির আওতায় মোট ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫৫০ জন বিদেশি কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের প্রথম ধাপে ২০২৬ সালের জন্য ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ জন কর্মী নিয়োগের কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন কর্মসূচিতে মৌসুমি, অমৌসুমি ও স্বনিয়োজিত- এই তিন ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশসহ নির্ধারিত কয়েকটি দেশের নাগরিকরা কাজের সুযোগ পাবেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের কোটায় অমৌসুমি চাকরির জন্য ৭৬ হাজার ২০০, পরিবারভিত্তিক পরিচর্যা বা কেয়ারগিভিং খাতে ১৪ হাজার, কৃষি ও পর্যটন খাতে মৌসুমি কাজের জন্য ৮৯ হাজার এবং স্বনিয়োজিত কাজের জন্য ৬৫০টি কোটা রাখা হয়েছে।
আবেদনের সময়সূচি
ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। ২৩ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ৯টা থেকে ৭ ডিসেম্বর ২০২৬ রাত ৮টা পর্যন্ত আবেদন প্রস্তুত ও জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলবে।
এরপর চার ধাপে নির্ধারিত হবে ‘ক্লিক ডে’-
১২ জানুয়ারি ২০২৭: কৃষি খাতের মৌসুমি কাজ
৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৭: হোটেল, রেস্টুরেন্টসহ পর্যটন খাতের মৌসুমি কাজ
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৭: বিভিন্ন অমৌসুমি চাকরি
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭: পরিবারভিত্তিক সহায়তা ও কেয়ারগিভিং কাজ
কোটা খালি থাকা সাপেক্ষে আবেদন করার চূড়ান্ত সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
যেভাবে হবে ওয়ার্ক ভিসা
ইতালির নিয়ম অনুযায়ী বিদেশি কর্মীরা সরাসরি নিজে ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন করতে পারবেন না। প্রথমে ইতালিতে থাকা নিয়োগকর্তা বা তাঁর অনুমোদিত প্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট কর্মীর জন্য ‘নুল্লা ওস্তা’ বা কাজের অনুমতিপত্রের আবেদন করবেন।
নুল্লা ওস্তা অনুমোদন পাওয়ার পর কর্মী নিজ দেশে অবস্থিত ইতালীয় দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট ভিসা আবেদনকেন্দ্রের মাধ্যমে ওয়ার্ক ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।
দালাল থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ
তবে ‘ক্লিক ডে’-তে আবেদন জমা হওয়া মানেই ভিসা নিশ্চিত হওয়া নয়। এটি মূলত ওয়ার্ক পারমিট প্রক্রিয়ার একটি প্রাথমিক ধাপ। তাই নিয়োগকর্তা, কাজের অফার, চুক্তিপত্র এবং নুল্লা ওস্তার সত্যতা যাচাই না করে কোনো দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীকে অর্থ না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষ করে ইতালির শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়ার সুযোগকে কেন্দ্র করে প্রতারণার আশঙ্কা থাকায় সরকারি প্রক্রিয়া ও বৈধ নিয়োগকর্তার মাধ্যমে আবেদন করার বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ রয়েছে।