প্রকাশিত : ০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৪৫ (মঙ্গলবার)
ইসলামপন্থি একটি পক্ষের আপত্তির মুখে সুনামগঞ্জে নারী ফুটবল ম্যাচ স্থগিত

ছবি: সংগৃহীত

‘অশ্লীলতার’ অভিযোগ তুলে ইসলামপন্থি একটি পক্ষের আপত্তির মুখে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে নারীদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ স্থগিত করেছেন আয়োজকেরা।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে দিরাই উপজেলা স্টেডিয়ামে সিলেটের জারা স্পোর্টিং ক্লাব ও স্থানীয় স্বপ্নচূড়া স্পোর্টিং ক্লাবের নারী দলের মধ্যে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

আয়োজক স্বপ্নচূড়া স্পোর্টিং ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ম্যাচ আয়োজনের বিষয়টি আগেই উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছিল। খেলা উপলক্ষে জারা স্পোর্টিং ক্লাবের কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়রা সিলেট থেকে সুনামগঞ্জেও পৌঁছেছিলেন।

তবে রোববার শরিফ উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে গিয়ে ‘অশ্লীলতার অভিযোগ’ তুলে নারী ফুটবল ম্যাচটি বন্ধের আবেদন করেন।

অভিযোগকারীরা নিজেদের ‘দিরাইয়ে ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটি’র সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। শরিফ উদ্দিন সাংবাদিকদের কাছে নিজেকে ওই কমিটির সভাপতি দাবি করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা আগে শুনেছিলাম, কিশোরীদের ফুটবল খেলা হবে। কিন্তু পরে মাইকিং করে বলা হয়, মহিলাদের ফুটবল খেলা হবে। দিরাইয়ে এর আগে এভাবে মহিলাদের কোনো ফুটবল খেলা হয়নি।’

তাঁর ভাষ্য, ‘আমরা খেলাধুলার বিরোধী নই, আমরা অশ্লীলতার বিরোধী।’

অন্যদিকে, আপত্তির বিষয়টি আয়োজকদের জানিয়ে অভিযোগকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের পরামর্শ দেয় উপজেলা প্রশাসন। তবে বিষয়টির সুরাহা না হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। একপর্যায়ে ম্যাচটি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন আয়োজকেরা।

দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে খেলা বন্ধের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। স্থানীয় আলেমদের একটি পক্ষ তাঁর কাছে এসে জানায়, খেলার মাঠের কাছেই একটি মাদ্রাসা রয়েছে। সেখানে নারীদের ফুটবল ম্যাচ হলে বাধা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ইউএনও বলেন, আয়োজক ও আপত্তিকারী- উভয় পক্ষই একই এলাকার বাসিন্দা। তাই বিষয়টি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। পরে আয়োজকেরা নিজেরাই খেলা স্থগিত করার সিদ্ধান্তের কথা জানান।

এদিকে, একটি নারী ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে আপত্তি ও নিরাপত্তার আশঙ্কায় খেলা স্থগিত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। নারী খেলোয়াড়দের মাঠে খেলার সুযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।