প্রকাশিত : ০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:৩৬ (বৃহস্পতিবার)
সিলেটে ট্রেনের টিকিট ‘হাওয়া’, কালোবাজারির সন্দেহে আদালতের মামলা

ছবি: সংগৃহীত

সিলেট থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী উপবন, কালনী, জয়ন্তিকা, পারাবত, উদয়ন ও পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র অসন্তোষের মধ্যে এবার কালোবাজারির সন্দেহে মামলা হয়েছে। নির্ধারিত দিনে অনলাইনে টিকিট বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই সব টিকিট ‘হাওয়া’ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সন্দেহ প্রকাশ করে স্ব-উদ্যোগে মামলাটি করেছেন সিলেটের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লা আল নোমান।

মামলার সূত্রে জানা যায়, সিলেট থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী বিভিন্ন আন্তনগর ট্রেনের টিকিট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাত্রীদের অসন্তোষ প্রকাশ পেয়ে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, অনলাইনে টিকিট বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট সময় টিকিট উন্মুক্ত হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। ফলে সাধারণ যাত্রীরা টিকিট না পেলেও পরে অধিক মূল্যে বিভিন্ন মাধ্যমে টিকিট বিক্রির অভিযোগ ওঠে।

বিষয়টি নজরে আসার পর ট্রেনের টিকিট বিক্রির সরকারি ওয়েবসাইট পরিদর্শন করেন আদালত। সেখানে নির্দিষ্ট দিনের টিকিট বিক্রির জন্য উন্মুক্ত হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সব টিকিট বিক্রি হয়ে যাওয়ার বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। বিপুলসংখ্যক টিকিট এত অল্প সময়ে বিক্রি হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সন্দেহ তৈরি হয় আদালতের।

মামলার নথিতে বলা হয়েছে, একটি চক্র ট্রেনের টিকিট বাজারজাতকরণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কারও কারও সহযোগিতায় মুহূর্তের মধ্যে ট্রেনের টিকিট সরিয়ে নিয়ে পরে তা অধিক মূল্যে যাত্রীদের কাছে বিক্রি করে থাকতে পারে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সাধারণ যাত্রীদের হয়রানির পাশাপাশি সিলেটের পর্যটনশিল্পের বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় কালোবাজারি ও মজুদদারির মতো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে- এমন সন্দেহের ভিত্তিতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লা আল নোমান স্ব-উদ্যোগে মিস মামলা নং-০১/২০২৬ দায়ের করেন।

মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ সুপার, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), সিলেটকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন পিবিআই সিলেটের উপপরিদর্শক আব্দুল আহাদ।

ট্রেনের টিকিট অনলাইনে উন্মুক্ত হওয়ার পরপরই কীভাবে বিপুলসংখ্যক টিকিট বিক্রি হয়ে যাচ্ছে, এর সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা চক্রের যোগসাজশ রয়েছে কি না এবং টিকিট কালোবাজারি বা মজুদের ঘটনা ঘটছে কি না- এসব বিষয় তদন্তে উঠে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।