প্রকাশিত : ০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:১৫ (বৃহস্পতিবার)
১২ দিনে চুনারুঘাট থানার ৪ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানায় বিভিন্ন অভিযোগে মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে চার পুলিশ সদস্যকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রত্যাহার হওয়া সদস্যদের মধ্যে একজন উপপরিদর্শক (এসআই), দুজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও একজন কনস্টেবল রয়েছেন।

সর্বশেষ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ঘুস গ্রহণের অভিযোগে এএসআই অতনু বণিককে চুনারুঘাট থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। এর এক দিন আগে ঘুস নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনকেও প্রত্যাহার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এক ব্যক্তিকে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার কথা বলে এএসআই অতনু বণিক ঘুস নিচ্ছেন—এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।

এর আগে সোমবার (৫ অক্টোবর) এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনের একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা হয়। ওই ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুসের টাকা দিয়ে, ঘুস খাওয়ার জন্যই।’

জানা গেছে, সম্প্রতি একটি মামলার তদন্তের কাজে চুনারুঘাট উপজেলার রানীগাঁও বাজারে গেলে ইলিয়াস হোসাইন ওই বক্তব্য দেন। স্থানীয় এক ব্যক্তি তা মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

এরও আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর ইয়াবা দিয়ে একই পরিবারের তিন সদস্যকে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগে এসআই মাসুম আল-মামুন ও কনস্টেবল রহুল আমীনকে চুনারুঘাট থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চুনারুঘাট উপজেলার কালিশিরী গ্রামের ছায়েদ মিয়া (৫০), তার মেয়ে জাসমিন আক্তার (২৪) ও ছোট ভাই ইউনুস মিয়ার (৪৫) সঙ্গে প্রতিবেশীদের বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত ২৪ সেপ্টেম্বর তাদের ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এলে অভিযোগটি তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ে এসআই মাসুম আল-মামুন ও কনস্টেবল রহুল আমীনকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।

এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. রাফিউর রহমান বলেন, তদন্তের স্বার্থে তাদের পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে একই থানার চার পুলিশ সদস্যকে বিভিন্ন অভিযোগের পর প্রত্যাহারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ঘুস গ্রহণের অভিযোগ, মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ এবং পুলিশ সদস্যদের বিতর্কিত বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় চুনারুঘাট থানার কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তাধীন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোকে চূড়ান্তভাবে সত্য হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।