প্রকাশিত : ০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৪২ (বৃহস্পতিবার)
দুর্গাপূজায় সিলেটে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস

ছবি: পিআইডি, সিলেট।

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে সিলেটে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো সমস্যা হলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে জেনারেটর প্রস্তুত রাখতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি স্থাপন এবং দায়িত্ব পালনের তথ্য সংরক্ষণের জন্য ডিউটি রেজিস্টার যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।

তিনি বলেন, পূজামণ্ডপে পূজা উদযাপন কমিটি, আনসার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের আতশবাজি বা এমন কার্যক্রম করা যাবে না, যাতে দর্শনার্থী ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে বিরক্তি বা উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সঠিকভাবে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।

গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়ে সতর্ক করে আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য বা ছবি প্রচারের আগে এর সত্যতা যাচাই করতে হবে। গুজবের ঘটনায় কেউ নিজের হাতে আইন তুলে নেবেন না। এ ধরনের ঘটনায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, প্রতিটি উপজেলায় পূজা উদযাপন ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি সমন্বয়ের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ চালু করতে হবে। প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে মনিটরিং টিম গঠন করা হবে। প্রয়োজনে বিশিষ্ট নাগরিকদের সমন্বয়ে উপজেলা পর্যায়ে ভিজিল্যান্স টিম গঠনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।

তিনি বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা যাতে নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, সে লক্ষ্যে প্রশাসনের সার্বিক তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। বিসর্জনের সময়সূচি যথাযথভাবে অনুসরণের জন্যও তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

জেলা প্রশাসক জানান, সিলেট মহানগর এলাকায় রাত ৯টার মধ্যে এবং জেলার অন্যান্য এলাকায় সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বিসর্জন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।