ছবি: এআই
বিশ্বনাথ পৌরশহরের কলেজ রোডের ডাকবাংলো ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই স্থান ও সময়ে দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিলের ঘোষণা দেওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদ বিন কাশেম স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান ১৪৪ ধারা জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্বনাথ পৌরসভার কলেজ রোডের ডাকবাংলো ও তৎসংলগ্ন এলাকায় ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে। এ সময় ওই এলাকায় সব ধরনের সভা, সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও গণজমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এ ছাড়া লাঠি, অস্ত্র বা বিস্ফোরক দ্রব্য বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির যেকোনো ধরনের জমায়েতও নিষিদ্ধ থাকবে। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে বিশ্বনাথের লামাকাজী ইউনিয়নের ভুরকী গ্রামের বাসিন্দা ও ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া এবং ইশবপুর গ্রামের হাজী সফির আলীর মধ্যে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই গ্রামের লোকজন সংঘর্ষে জড়ান। সংঘর্ষের আগে উভয় পক্ষ মাইকিং করে লোকজন জড়ো করে বলে জানা গেছে।
ওই সংঘর্ষে চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়াসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। এ ঘটনায় পরে থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা করা হয়।
চেয়ারম্যানের ওপর হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় ডাকবাংলো এলাকায় প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশের ডাক দেয় উপজেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল।
অন্যদিকে, মামলা ও সংশ্লিষ্ট ঘটনার প্রতিবাদে একই স্থান ও সময়ে ‘উপজেলার সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভার ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সময়ে একই স্থানে দুই পক্ষের কর্মসূচি ঘিরে মুখোমুখি অবস্থান ও সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো এবং জনস্বার্থে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে।