সিলেট বিভাগে হাম ও হাম সন্দেহে মৃত্যুর ঘটনা থামছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর বিভাগে হাম ও হাম সন্দেহে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৫ জনে। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছিল ১০ জনের। বাকি ১৭৫ জন মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায়।
স্বাস্থ্য বিভাগের ৮ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগে মারা যাওয়া দুই শিশুর একজনের বাড়ি সিলেটের গোয়াইনঘাটে এবং অন্যজনের বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে। দুজনেরই বয়স এক বছরের কম।
গোয়াইনঘাটের শিশুটির বয়স ৯ মাস। ৭ অক্টোবর সে মারা যায়। চিকিৎসাধীন ছিল সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। অন্যদিকে, সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের ৬ মাস বয়সী শিশুটি মারা যায় ৬ অক্টোবর। সে চিকিৎসাধীন ছিল সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ দুই মৃত্যুর পর সিলেট জেলায় হাম ও হাম সন্দেহে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫ জনে। এর মধ্যে সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যু ৭১ জনের এবং নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু ৪ জনের। সুনামগঞ্জে মোট মৃত্যু ৬৭ জনের। এর মধ্যে সন্দেহজনক ৬৬ এবং নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু একজনের। হবিগঞ্জে ২৮ এবং মৌলভীবাজারে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
মৃত্যুর পাশাপাশি হাসপাতালে রোগীর চাপও বেড়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ২২৯ জন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৮৮ জন ভর্তি হয়েছেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৬৬, এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৬, পার্কভিউ মেডিকেল হাসপাতালে ১২ এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৭ জন ভর্তি হয়েছেন।
এ ছাড়া জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে ৪ এবং ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন নতুন করে ভর্তি হয়েছেন।
নতুন রোগী ভর্তির পাশাপাশি বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে চিকিৎসাধীন আছেন ৫৫২ জন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০৩ জন। শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৭০ এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৭৭ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পার্কভিউ মেডিকেল হাসপাতালে ২৮, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ২৭, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে ১০ এবং বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৮ জন ভর্তি আছেন। এ ছাড়া গোলাপগঞ্জে ৭, বিশ্বনাথে ৫, কোম্পানীগঞ্জে ৪, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৩, উইমেন্স মেডিকেল হাসপাতালে ৩, হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৩, ফেঞ্চুগঞ্জে ২ এবং ধর্মপাশায় ২ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অন্যদিকে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত সিলেট বিভাগে পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৯৫ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৪২২, সুনামগঞ্জে ৩৫৭, হবিগঞ্জে ১৫৮ এবং মৌলভীবাজারে ১৫৮ জন। হবিগঞ্জের সংখ্যার মধ্যে ২ জন রুবেলা রোগী রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে, এ পর্যন্ত বিভাগে হাম ও হাম সন্দেহে মোট ১৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যু ১৭৫ জনের এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। অর্থাৎ, মৃত্যুর বড় অংশই হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায়।