ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত, দেশপ্রেম, মানবতাবাদ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশব্যাপী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় জেলা প্রশাসন হবিগঞ্জ এর সহযোগিতায় ও জেলা শিল্পকলা একাডেমি হবিগঞ্জ-এর ব্যবস্হাপনায় জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত ৩ দিনব্যাপী প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে আজ পুরস্কার ও সনদপত্র প্রদান করা হয়েছে।
জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত পুরস্কার প্রদান ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক হবিগঞ্জ ড. জি. এম. সরফরাজ।
জেলা কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাশ গুপ্তের সভাপতিত্ব অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক হাজী মোঃ এনামুল হক ও জেলা জাসাসের সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম শুধু বিদ্রোহের কবি নন, তিনি সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও মুক্তচিন্তার কবি। তাঁর সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্ম তরুণ প্রজন্মকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও সম্প্রীতিময় সমাজ গঠনে অনুপ্রাণিত করে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক এ ধরনের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশের পাশাপাশি নজরুলের জীবন ও দর্শনের সঙ্গে তাদের পরিচিত করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
হবিগঞ্জ জেলা পর্যায়ের জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন উপজেলার প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কারিগরি, মাদ্রাসা ও কলেজ পর্যায়ের বিজয়ী শিক্ষার্থীরা নজরুল সংগীত, নৃত্য, কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, অভিনয়, রচনা, নির্ধারিত/উপস্হিত বক্তৃতা, নজরুলের ইসলামিক সংগীত/গজল, হামদ ও নাত বিষয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।
প্রতিযোগিতায় কৃতিত্ব অর্জনকারী ১৭৪ জন শিক্ষার্থীর হাতে আজ পুরস্কার ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে অতিথিরা বলেন, নজরুলের অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক চেতনা ধারণ করে শিক্ষার্থীদের নিজেদের যোগ্য ও সৃজনশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।