ছবি: সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার মরাচেলা (সোনালী চেলা) নদীর পাড় কেটে মাত্র ১০ দিনে প্রায় ২৫ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের হিসাবে, উত্তোলন করা ওই বালুর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা।
এ ঘটনায় ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে মামলা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। মামলায় দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলার ৩৬ জন এবং সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার একজনকে আসামি করা হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পরিবেশ অধিদপ্তরের সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে দোয়ারাবাজার থানায় মামলাটি করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোহাইমিনুল হক।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৫ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে সোনালী চেলা নদীসংলগ্ন শ্রীপুর মৌজার সোনাপুর ও পূর্ব সোনাপুর এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মোহাইমিনুল হক।
পরিদর্শন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনের তথ্য পাওয়া যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, অভিযুক্তরা গত ২৫ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন রাত ৮টার পর থেকে সকাল পর্যন্ত নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন করেন। ১০ দিনে আনুমানিক ২৫ লাখ ঘনফুট বালু লোড-আনলোড করা হয়েছে। যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা।
পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযোগ, এভাবে নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনের ফলে স্থানীয় পরিবেশ ও প্রতিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।
এদিকে মামলায় বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত-২০১০)-এর ৬(ঙ), ১২ ও ১৫(১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। নাম উল্লেখ করা আসামিদের মধ্যে দোয়ারাবাজার উপজেলার চাইরগাঁও, সোনাপুর, হাবিবনগর, ইসলামপুর, পূর্ব সোনাপুর, নরসিংপুরসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা রয়েছেন। ছাতক উপজেলার রহমতপুর, নোয়াগাঁও ও ইসলামপুর গ্রামের তিনজন এবং সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার একজনকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে।
এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বাদী মো. মোহাইমিনুল হক বলেন, আসামিরা অবৈধভাবে নদীর পাড় কেটে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করে পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি করেছেন। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, তদন্ত শেষে পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা আদালতে দ্রুত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করবেন।
উল্লেখ্য, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা ও পরিবেশগত বিধিনিষেধের মধ্যেও সোনালী চেলা নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনের অভিযোগটি নতুন করে স্থানীয় পরিবেশ ও নদী রক্ষার প্রশ্ন সামনে এনেছে।