ছবি: সংগৃহিত।
সিলেটে মহালয়া উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক সূচনা পর্ব মহালয়া উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন হয়েছে বৃহস্পতিবার।
দেবীপক্ষের সূচনায় মাতৃশক্তির পরম জাগরণের মধ্য দিয়ে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে; এমন আশাবাদ ও মাংগলিক আবহের মধ্য দিয়ে সিলেটে শুরু হয়েছে মহালয়া উদযাপন পরিষদ শ্রীহট্টের (১৪৩৩ বঙ্গাব্দ) ৩ দিনব্যাপী বার্ষিক উৎসব। বৃহস্পতিবার সিলেট নগরীর মিরাবাজারস্থ শ্রীশ্রী বলরাম জিউর আখড়ায় সকাল সাড়ে ৮টায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
মহালয়া মূলত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক সূচনা পর্ব। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, পিতৃপক্ষের অবসানে দেবীপক্ষের সূচনায় এদিন দেবী দুর্গা মর্ত্যলোকে আগমন করেন। যদিও পঞ্চমী তিথিতে দেবীর বোধন ও ষষ্ঠীতে মূল পূজা শুরু হয়, তবে মহালয়ার মধ্য দিয়েই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আমেজ। এই ধারাবাহিকতায় সিলেট রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের সম্পাদক শ্রীমৎ স্বামী চন্দ্রনাথানন্দজী মহারাজ প্রধান উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে ৩ দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন।
উদ্বোধনী পর্বে পরিষদের সভাপতি ইমিগ্রেশন এডভাইজার জি.ডি. রুমুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ন্যাশনাল ব্যাংক ম্যানেজার দ্বীপক কুমার দাশের পরিচালনায় শ্রীমৎ স্বামী চন্দ্রনাথানন্দজী মহারাজ বলেন, "দেবীপক্ষের সূচনায় মাতৃশক্তির যে জাগরণ ঘটে, তা কেবল ধর্মীয় আচারেই সীমাবদ্ধ নয়; এর মধ্য দিয়ে সমাজে বিরাজমান অন্যায় দূর হয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।"
অনুষ্ঠানে সম্মানিত উপদেষ্টা ও স্থানীয় সামাজিক-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রথম দিনের আয়োজনে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে উদ্দীপনা ছড়াতে একাধিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়: চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা: বিকেলে চিত্রশিল্পী ভানু লাল দাসের সভাপতিত্বে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার সিলেটের উপসচিব মাহমুদা সুলতানা।
ধর্মীয় কুইজ প্রতিযোগিতা: সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শিক্ষক সিতাংশু বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কুইজ পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট সিলেটের প্রাক্তন ট্রাস্টি নীহার রঞ্জন দাস বাচ্চু। কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা: সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কবি তারেশ কান্তি তালুকদার-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এমসি কলেজ সিলেটের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক পান্না রাণী রায়।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান: প্রথম দিনের রাতের আকর্ষণ ছিল পরিষদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক বাচিক ও নাট্যশিল্পী অমিত ত্রিবেদীর পরিচালনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
উৎসবের দ্বিতীয় দিনে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দিনব্যাপী রয়েছে রক্তদান কর্মসূচি, মাতৃসংগীত, শ্রীশ্রী চণ্ডীপাঠ ও গীতাপাঠ প্রতিযোগিতা এবং দুপুরে মহাপ্রসাদ বিতরণ। সন্ধ্যায় দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি-র। মহালয়া উদযাপন পরিষদ শ্রীহট্টের পক্ষ থেকে বৃহত্তর সিলেটের ধর্ম-বর্ণ ও দল-মত নির্বিশেষে সকল ভক্ত ও সুধীজনকে ৩ দিনব্যাপী এই আয়োজনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।