ছবি: ইমজা নিউজ
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের নার্সারি পুঞ্জিতে দুষ্কৃতিকারীদের দ্বারা কেটে ফেলা ক্ষতিগ্রস্ত পানজুম ও পান গাছগুলো পরিদর্শন করেছেন সহকারী পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩ টায় তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। এ সময় কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না, এসআই অলক বিহারী গুন ও মো. ফজলুল হক তার সাথে উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন এই কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত খাসিয়া ও গারো পরিবারের ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের পুরো বিষয়টি মনোযোগ দিয়ে শোনেন।
এ সময় তারা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোরালো আশ্বাস প্রদান করেন।
ক্ষতিগ্রস্তদের সাথে মতবিনিময়কালে উপস্থিত ছিলেন কুবরাজ আন্তঃপুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফ্লোরা বাবলি তালাং, কর্মধা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সিলভেষ্টার পাঠাং, নার্সারি পুঞ্জির মান্ত্রী (পুঞ্জি প্রধান) জনি পতামসহ পুঞ্জির ক্ষতিগ্রস্ত ১০টি পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় আদিবাসী নেতৃবৃন্দরা।
নার্সারি খাসিয়া পুঞ্জি পরিদর্শনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না।
কুবরাজ আন্তঃপুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফ্লোরা বাবলি তালাং বলেন, এই ঘটনার এক সপ্তাহ আগে দুর্বৃত্তরা সাহেব টিলা পুঞ্জিতে হামলা চালিয়ে পানগাছ কেটে ফেলেছিল। এরপর গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে নার্সারি পুঞ্জিতে ৯ হাজারের বেশি পান গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এসব পুঞ্জির বাসিন্দারা জীবিকার জন্য মূলত পান চাষের ওপর নির্ভরশীল। এভাবে পানগাছ ধ্বংস হতে থাকলে পুঞ্জির বাসিন্দারা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়বেন।
উল্লেখ্য, গত ৩০ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে নার্সারি পানপুঞ্জিতে একদল দুর্বৃত্ত রাতের আঁধারে পানজুমে প্রবেশ করে অতর্কিত ভাবে পানগাছ কেটে ফেলে। এ সময় তারা ১০টি খাসিয়া ও গারো পরিবারের প্রায় ৯ হাজারের বেশি পান গাছ কেটে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়, এতে আনুমানিক ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে, যা পুঞ্জিবাসী খাসিয়া ও গারো জনগোষ্ঠীর জীবিকার ওপর এক মারাত্মক আঘাত। এই ঘটনার পর থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।