প্রকাশিত : ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:৩৮ (রবিবার)
শ্রীমঙ্গলে বই পড়ে ল্যাপটপ পেলেন ৮ শিক্ষার্থী

ছবি: ইমজা নিউজ

বই পড়ে মেধা যাচাইয়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ল্যাপটপ জিতেছেন আট শিক্ষার্থী। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আয়োজিত ‘শ্রীমঙ্গল বইপড়া উৎসব ২০২৬-এর ফল ঘোষণা ও সমাপনী অনুষ্ঠানে শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১০ টায় জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে বিজয়ীদের হাতে ল্যাপটপসহ বিভিন্ন পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এ ছাড়া চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়া ৭৪০ জন শিক্ষার্থীকে বই ও সনদ দেওয়া হয়েছে।

‘বই পড়ি, মন গড়ি' প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী।

বিশেষ অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল ও শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ও স্বাগত বক্তব্য দেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান। সঞ্চালনা করেন উৎসবের প্রধান সমন্বয়ক দেবাশীষ দাশ।

পরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।

আটটি ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অর্জন করে ল্যাপটপ পেয়েছেন ফাতেমা জাহান, রাজশ্রী হালদার, অদ্রিজা পাল, আসাদুজ্জামান শিহাব, উম্মে কুলসুম মীম, তাসনুভা সুহা, উম্মে নাফিসা মাইমুনাহ ও ফাতেমা সুলতানা। প্রতিটি ক্যাটাগরিতে আরও নয়জন করে শিক্ষার্থী সনদ, ক্রেস্ট ও বই পেয়েছেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, বই মানুষের প্রকৃত বন্ধু। বই পড়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, চিন্তাশক্তি ও মননশীলতার বিকাশ ঘটে। বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। শ্রীমঙ্গল বইপড়া উৎসবের মতো উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি কমিয়ে জ্ঞানচর্চায় আগ্রহী করে তুলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, সন্তানদের পড়াশোনা, দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড ও সময় ব্যবহারের বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। তারা যেন মোবাইল ফোনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় না করে বই পড়া ও জ্ঞানচর্চায় আগ্রহী হয়, সে জন্য অভিভাবকদের উৎসাহ দিতে হবে। এ উৎসবের ধারাবাহিকতায় শ্রীমঙ্গলে বই পড়ার সংস্কৃতি আরও বিস্তৃত হবে এবং শিক্ষার্থীরা জ্ঞাননির্ভর, মানবিক ও আলোকিত সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, ল্যাপটপ বা পুরস্কার পাওয়া বড় কথা নয়; বরং বই পড়ার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের জ্ঞান, চিন্তাশক্তি ও মননশীলতার বিকাশ ঘটানোই এ উৎসবের মূল সার্থকতা। তরুণেরাই আগামী দিনের দেশ গড়ার কারিগর। তাদের মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের পাশাপাশি বইয়ের সঙ্গেও তরুণদের নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। এ উৎসব শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়তে উৎসাহিত করবে এবং দেশ ও সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ল্যাপটপ বিজয়ী দি বাডস রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাজশ্রী হালদার বলেন, ‘ল্যাপটপ পেয়ে আমার সত্যিই অনেক ভালো লাগছে। তবে এর চেয়েও বেশি ভালো লাগছে, বই পড়ে নতুন নতুন বিষয় জানতে পারছি এবং নিজেদের জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে পারছি।

উচ্চমাধ্যমিক ক্যাটাগরিতে ল্যাপটপ বিজয়ী শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তাসনুভা সুহা বলেন, ‘আমার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তিন মাসে তিনটি পর্বে আমাদের তিনটি বই পড়তে হয়েছে। বইগুলো ছিল ব্যতিক্রমধর্মী। সেগুলো পড়ে খুব ভালো লেগেছে। ল্যাপটপটি পড়াশোনার কাজে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে অনলাইন ক্লাস করতে পারব এবং পড়াশোনার বিভিন্ন কাজে এটি আমাকে সহযোগিতা করবে।থ

ইউএনও জিয়াউর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যেই এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এতে শ্রীমঙ্গলের ৪৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এবং উন্মুক্ত ক্যাটাগরির বইপ্রেমীরা অংশ নেন। তিনটি পর্বে উৎসবে প্রায় ৩৮টি বই পড়ানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বই পড়ার অভ্যাস শিক্ষার্থীদের অজানাকে জানার আগ্রহ বাড়ায়, চিন্তাশক্তির বিকাশ ঘটায় এবং দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে সহায়তা করে। এ উৎসবের মাধ্যমে 

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর গ্রন্থাগারচর্চাও নতুন করে সচল হয়েছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, গণমাধ্যমকর্মী ও প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগে শ্রীমঙ্গলে পাঠবান্ধব পরিবেশ গড়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।