ছবি: সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের ছাতকে মানসিক ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। উপজেলার খুরমা দক্ষিণ ইউনিয়নের মানিকগঞ্জ বাজারে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের দৃশ্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তকে শনাক্ত করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা।
গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) মানিকগঞ্জ বাজারে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এক যুবককে মানসিক ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তিকে মারধর করতে দেখা গেছে বলে দাবি করছেন ভিডিওটি দেখা ব্যক্তিরা।
তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ, মারধরের পেছনে কোনো বিরোধ ছিল কি না এবং অভিযুক্ত যুবকের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তাঁদের মতে, একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির প্রয়োজন সহানুভূতি, নিরাপত্তা ও সহযোগিতা। তাঁর অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে মারধরের অভিযোগ মানবিক মূল্যবোধকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
সচেতন নাগরিকেরা বলছেন, কোনো ব্যক্তির আচরণে কেউ বিরক্ত বা বিব্রত হলেও তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করার অধিকার কারও নেই। মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিরাও সমাজের অংশ। তাঁদের প্রতি অবহেলা, উপহাস কিংবা নির্যাতন নয়, বরং সহমর্মিতা ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ ঘটনায় ভিডিওটি যথাযথভাবে যাচাই করে অভিযুক্তকে শনাক্ত এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
একই সঙ্গে মারধরের শিকার ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। তিনি আহত হয়ে থাকলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনার শিকার না হন, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন সচেতন নাগরিকেরা।
এ বিষয়ে ছাতক-দোয়ারাবাজার সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শেখ মুরছানির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ছুটিতে রয়েছেন বলে জানান। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ছাতক থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাপস ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘খোঁজখবর নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে, ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহি উদ্দিনের সরকারি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযুক্ত যুবকের পরিচয়, গ্রেপ্তার কিংবা তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর ভিত্তিতে কাউকে চূড়ান্তভাবে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা না করে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকেরা।