প্রকাশিত : ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৪৪ (রবিবার)
জ্ঞানেশ কুমারের পর মোদি সরকারও যাবে, দাবি রাহুল গান্ধীর

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিদায়ের পর দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হবে বলে মন্তব্য করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।

সংসদের সংবিধান সদনের সেন্ট্রাল হলে ‘ইন্ডি’ জোটের সাংসদদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে রাহুল গান্ধী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি কেবল একজন নির্বাচন কমিশনারকে সরানোর বিষয় নয়; বরং এর সঙ্গে আরও বড় ও গভীর সংকট জড়িত। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বর্তমান সরকারের পতন জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাহুল গান্ধীর দাবি, গত কয়েক দিনে বিরোধীরা যেভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে চাপ সৃষ্টি করেছে, তাতে সরকার চাপে পড়েছে এবং আতঙ্কিত হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘জ্ঞানেশ কুমার যাবেন, এই সরকারও যাবে, আর তারপরই শুরু হবে গণতন্ত্র মেরামতের কাজ।’

এই লড়াইকে দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রাম হিসেবে উল্লেখ করেন কংগ্রেস নেতা। বিরোধীরা ঐক্যবদ্ধভাবে বর্তমান গতি ও চাপ ধরে রাখতে পারলে সরকারের পতন ঘটবে বলেও আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন তিনি।

সম্প্রতি ভোটার তালিকাসংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দুই কমিশনার গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন—এমন একটি সংবাদ প্রকাশের পর ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি হয়।

এ নিয়ে রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী দলগুলো মোদি সরকারের সমালোচনায় সরব হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, মতপার্থক্য যেকোনো প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ এবং তাদের সব নির্দেশনা আইনসম্মত।

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ও ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্য ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে মোদি সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর বক্তব্য রাজনৈতিক দাবি ও পূর্বাভাস হিসেবেই বিবেচ্য।