প্রকাশিত : ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৩৯ (সোমবার)
‘মনীষাকে খুব মনে পড়ে’, বিচ্ছেদের যন্ত্রণায় ভেঙে পড়েছিলেন নানা পটেকর!

ছবি: সংগৃহীত

বলিউডের পর্দায় একসঙ্গে অভিনয় করতে গিয়ে কি বাস্তব জীবনেও একে অপরের প্রেমে পড়েছিলেন নানা পটেকর ও মনীষা কৈরালা? নব্বইয়ের দশকে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে কম আলোচনা হয়নি। কথিত সেই প্রেমের বিচ্ছেদও নাকি সহজে মেনে নিতে পারেননি নানা। পুরোনো এক সাক্ষাৎকারে মনীষাকে মনে করে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন অভিনেতা। বলেছিলেন, ‘মনীষাকে খুব মনে পড়ে।’

বলিউডে নানা পটেকর ও মনীষা কৈরালার রসায়ন একসময় দর্শকের নজর কেড়েছিল। ‘অগ্নিসাক্ষী’ ও ‘খামোশী’র মতো ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন তাঁরা। পর্দার সেই রসায়ন থেকেই তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। যদিও দুজনের সম্পর্কের বিষয়ে নানা জল্পনা থাকলেও তা নিয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা বলেননি কেউই।

১৯৯৭ সালে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের কঠিন সময়ের কথা বলতে গিয়ে আবেগ সামলাতে পারেননি নানা। সম্পর্কের বিচ্ছেদ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই তাঁর কণ্ঠে ধরা পড়ে কষ্টের সুর। অভিনেতা বলেছিলেন, ‘খুব কঠিন সময় ছিল। এই যন্ত্রণা বুঝতে হলে নিজেকে সেই পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। আমি যে কষ্টের মধ্যে দিয়ে গিয়েছি, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। দয়া করে, এ নিয়ে আর কথা বলবেন না। মনীষাকে খুব মনে পড়ে।’

নানার এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট হয়েছিল, মনীষাকে ঘিরে তাঁর স্মৃতিগুলো তখনো আবেগের জায়গায় কতটা প্রভাব ফেলছিল। তবে তাঁদের সম্পর্কের প্রকৃত সমীকরণ নিয়ে দুজনের পক্ষ থেকেই বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

সম্পর্কের গুঞ্জন ও বিচ্ছেদের আলোচনা থাকলেও মনীষার অভিনয়প্রতিভার প্রশংসা করতে কখনো পিছপা হননি নানা। তাঁর মতে, মনীষা ছিলেন সহজাত প্রতিভাসম্পন্ন এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল একজন অভিনেত্রী।

নানা বলেছিলেন, ‘মনীষার প্রতিভা সহজাত। ও আমার দেখা সবচেয়ে সংবেদনশীল অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম। ও অনেকটা কস্তুরীমৃগের মতো। ওকে এখনও বুঝতে হবে যে, অন্য কারও সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলার প্রয়োজন নেই। ওর মধ্যে সব কিছুই রয়েছে, আর সেটাই যথেষ্ট।’

বিচ্ছেদের পরেও মনীষার প্রতি তাঁর এই প্রশংসা ও উদ্বেগ সেই সময়ের সাক্ষাৎকারে বিশেষভাবে উঠে এসেছিল। মনীষার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা যখন কথা বলেছিলেন, তখন তাঁর বক্তব্যে অভিমান কিংবা অভিযোগের চেয়ে অভিনেত্রীর প্রতি মমতাই বেশি প্রকাশ পেয়েছিল।

মনীষার কঠিন সময় নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন নানা
নব্বইয়ের দশকে মনীষা নিজেও ব্যক্তিগত জীবনের নানা জটিলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। পরবর্তী সময়ে নিজের স্মৃতিকথা ‘হিল্‌ড’-এ অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন, শুটিংয়ের চিন্তা থেকে দূরে থাকতে এবং নিজেকে অসাড় করে রাখতে তিনি মদ্যপানের আশ্রয় নিয়েছিলেন। ডায়েট করার সময়ও ভদকার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মনীষার সেই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন নানা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘ও নিজের সঙ্গে যা করছে, তা দেখলে আমি চোখের জল ধরে রাখতে পারি না। হয়তো আজ ওর বিষয়ে কিছু বলার অধিকারও আমার নেই।’

নানার এই বক্তব্যে মনীষার প্রতি তাঁর পুরোনো টান ও উদ্বেগের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবে তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়ে প্রকাশ্যে আসা তথ্যের বাইরে গিয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

মনীষার সঙ্গে সম্পর্কের সময় নানা পটেকরের স্ত্রী নীলকণ্ঠীর সঙ্গে তাঁর দাম্পত্য সম্পর্ক ছিল। তাঁরা আলাদা থাকলেও তাঁদের আইনি বিচ্ছেদ হয়নি। অন্যদিকে, ২০১০ সালে ব্যবসায়ী সম্রাট দহালকে বিয়ে করেছিলেন মনীষা। তবে দুই বছরের মধ্যেই সেই দাম্পত্য সম্পর্কের অবসান ঘটে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) গোয়ায় নিজের বাসভবনে নানা পটেকরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শোক প্রকাশ করেন মনীষা। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, একজন মহান অভিনেতা ও অভিনয়শিল্পের প্রকৃত স্তম্ভের প্রয়াণে তিনি গভীরভাবে শোকাহত। সিনেমায় নানার অবদান এবং কাজের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও উল্লেখ করেন অভিনেত্রী।

পর্দার সহশিল্পী থেকে ব্যক্তিগত জীবনের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিনের গুঞ্জন; নানা ও মনীষাকে ঘিরে আলোচনার শেষ হয়নি কখনো। পুরোনো সেই সাক্ষাৎকারে নানার ‘মনীষাকে খুব মনে পড়ে’ কথাটি তাই আবারও সামনে এনেছে তাঁদের সম্পর্কের স্মৃতি। তবে তাঁদের কথিত প্রেমের গল্পের আড়ালে ঠিক কতটা আবেগ, কতটা অভিমান আর কতটা না-বলা কথা ছিল, তার উত্তর অজানাই রয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার রাতে পুণেয় নিজের খামারবাড়িতে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় নানা পটেকরের।