প্রকাশিত : ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:১৭ (সোমবার)
সিলেটে দুর্গাপূজায় পুলিশের ১২ নির্দেশনা

ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদ্‌যাপন ও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১২টি নির্দেশনা দিয়েছে সিলেট রেঞ্জ পুলিশ। নির্দেশনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার না ছড়ানো, পূজামণ্ডপের আশপাশে অবৈধ দোকান না বসানো, সড়কে গাড়ি পার্কিং না করা এবং হাউজি-জুয়াসহ বিভিন্ন অনিয়ম থেকে বিরত থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) সিলেট রেঞ্জ পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে এ তথ্য জানানো হয়। পূজাকে কেন্দ্র করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি পুলিশের নির্দেশনাগুলো মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পুলিশের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো যাবে না। পূজামণ্ডপের আশপাশে অবৈধ দোকান বসানো ও রাস্তায় গাড়ি পার্কিং করা থেকে বিরত থাকতে হবে। পূজা উপলক্ষে মেলা বা অন্য কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যাবে না। এ ছাড়া মোটরসাইকেলে রেস ও বেপরোয়া গতিতে চলাচল নিষেধ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূজামণ্ডপে নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক প্রবেশ ও প্রস্থানপথ রাখতে হবে। পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র মজুত রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। প্রতিমা বিসর্জনের সময় নির্ধারিত রুট অনুসরণ করতে হবে।

পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা তল্লাশির ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। নারীদের তল্লাশির জন্য নারী স্বেচ্ছাসেবক রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া পূজামণ্ডপ ও উৎসবকে কেন্দ্র করে হাউজি, জুয়া, আতশবাজি ও পটকা ফোটানো থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। আজান ও নামাজের সময় শব্দযন্ত্রের ব্যবহার সীমিত রাখা এবং উচ্চ শব্দ সৃষ্টি না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে শনিবার (১০ অক্টোবর) সিলেট রেঞ্জ পুলিশের উদ্যোগে একটি পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন। সভা সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক।

সভায় সিলেট রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রেঞ্জের চার জেলার পুলিশ সুপার, আরআরএফ সিলেটের কমান্ড্যান্ট, ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্টসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া অনলাইন প্ল্যাটফর্মে রেঞ্জের বিভিন্ন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক, ডিআইও-১, সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সহকারী পুলিশ সুপার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং ফাঁড়ি, ক্যাম্প ও তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জরা সভায় যুক্ত ছিলেন।