ছবি: এসআরবি-৯
যুক্তরাজ্যে ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় লোক পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে সিলেটের অন্তত ৫০ জনের কাছ থেকে প্রায় ১৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ‘ফেমেক্স অ্যাসোসিয়েট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দায়ের করা একাধিক প্রতারণা মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি মোঃ মাহফুজুর রহমান সাকিকে (২৫) ঢাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৯।
রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল আনুমানিক ৩টা ৫০ মিনিটে ঢাকা মহানগরীর রমনা থানাধীন ফরচুন মার্কেটের পেছনে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব-৯-এর সদর কোম্পানি, সিলেট ও র্যাব-৩-এর সিপিসি-১, শাহজাহানপুর, ঢাকার যৌথ দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
গ্রেপ্তার মাহফুজুর রহমান সাকি সিলেটের মোগলাবাজার থানার রাখালগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মিজানুর রহমান জানু মিয়া। প্রাথমিকভাবে সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানায় তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা পাঁচটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিলেটের বাসিন্দা ফাহিমা বেগমের মেয়ে লামিছা মাকসুদা ও জামাতা মো. মামুনুর রহমানকে যুক্তরাজ্যে পাঠানোর আশ্বাস দেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এ জন্য ৩২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হলে ফাহিমা বেগম নগদ ও ব্যাংকের মাধ্যমে মোট ৩১ লাখ ৯৯ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পাসপোর্ট জমা দেন।
তবে দীর্ঘদিনেও ভিসার ব্যবস্থা না হওয়ায় গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অফিসে গিয়ে বিষয়টি জানতে চান। অভিযোগ অনুযায়ী, তখন তাঁরা টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং ফাহিমা বেগম ও তাঁর সঙ্গীদের ধাক্কা দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেন। এ সময় তাঁদের হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার করে যুক্তরাজ্যে ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় লোক পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করে আসছিল ‘ফেমেক্স অ্যাসোসিয়েট’-এর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ভুক্তভোগীদের দায়ের করা একাধিক মামলার আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়।
গ্রেপ্তার আসামিকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব-৯।