প্রকাশিত : ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:১১ (মঙ্গলবার)
ওসমানীনগরে ৩৯ মণ্ডপে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি, রাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবি

ছবি: সংগৃহীত

আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ উৎসবকে ঘিরে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার ৩৯টি পূজামণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। এখন প্রতিমায় রংতুলির শেষ আঁচড় দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা। অন্যদিকে, তোরণ নির্মাণ, আলোকসজ্জা ও মণ্ডপ সাজানোর কাজে ব্যস্ত রয়েছেন পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যরা। সব মিলিয়ে উপজেলার পূজামণ্ডপগুলোতে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।

এদিকে, শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারে তৎপর রয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গতকাল সোমবার  সকালে উপজেলা সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মেরিনা দেবনাথ।

সভায় পূজামণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার, অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক সতর্কতা বজায় রাখা, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে উৎসব উদ্‌যাপনে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়।

এ ছাড়া পূজামণ্ডপ এলাকায় মাদকদ্রব্য পান ও সেবন থেকে বিরত থাকার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। রাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবিও জানান সংশ্লিষ্টরা, যাতে মণ্ডপগুলোতে আলোকসজ্জাসহ পূজার আনুষ্ঠানিকতা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়।

সভা শেষে উপজেলার ৩১টি পূজামণ্ডপের দায়িত্বশীলদের হাতে সরকারি বরাদ্দের ৬০০ কেজি করে চালের ডিও লেটার তুলে দেওয়া হয়। বাকি আটটি পূজামণ্ডপের মধ্যে দুটি নতুন হওয়ায় সেগুলোর জন্য মন্ত্রণালয়ে নতুন করে তালিকা পাঠানো হয়েছে। অন্য ছয়টি ব্যক্তিগত পূজামণ্ডপ হওয়ায় সেগুলোতে সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।

সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাপস চক্রবর্তী, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মিছবাহ, ওসমানীনগর থানার তদন্ত কর্মকর্তা জয়নাল হোসেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম তালুকদার, পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার ফয়জুল্লাহ, সমাজসেবা কর্মকর্তা জয়তী দত্ত, আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা সামছুন নাহার, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি সত্যেন্দ্র দেব, উপজেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জুবেল আহমদ সেকেল, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক কবির আহমদ, গোয়ালাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুম, সাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ ইসমাইল আলী, পূজামণ্ডপ কমিটির সাধারণ সম্পাদক অজিত পাল এবং গোয়ালাবাজার কালীমন্দির পূজামণ্ডপের সভাপতি কাঞ্চন দে।