ছবি: সংগৃহীত
প্রবাসীকল্যাণ ও শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার ঘটনায় সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে জুবায়ের আহমদ (৩২) নামের এক যুবককে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। পরে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে বিএনপি নেতা শওকত আলী বাবুল ও লাল মিয়ার জিম্মায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
জুবায়ের আহমদ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কলাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় তিনি একজন পাথর ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষক।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. উছমান গনি জানান, মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে জুবায়েরকে থানায় নিয়ে আসা হয়। সেখানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রায় ১০ ঘণ্টা পর রাত ১১টা ৫০ মিনিটে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী বর্তমানে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন। কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর নিয়ে গঠিত এ আসনের সীমান্তবর্তী এলাকার বহু মানুষের জীবিকা বালু ও পাথর কোয়ারির ওপর নির্ভরশীল। তবে দীর্ঘদিন ধরে কোয়ারিগুলো বন্ধ থাকায় স্থানীয় পাথর ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে হতাশা রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এক নির্বাচনী জনসভায় আরিফুল হক চৌধুরী নির্বাচিত হলে পরদিনই পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পরও কোয়ারিগুলো চালু না হওয়ায় এ নিয়ে অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৮ অক্টোবর রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর তিনটি ছবি প্রকাশ করে একটি পোস্ট দেন জুবায়ের। সেখানে তিনি লেখেন, ‘১২ তারিখ নির্বাচনের পরে ১৩ তারিখ সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। অথচ কিছুই ঠিক হলো না। মন্ত্রী মহোদয় আমাদের জীবন কঠিন থেকে কঠিনতম করে দিলেন।’
পোস্টটি প্রকাশের পর স্থানীয় ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। অনেকে কোয়ারি চালু না হওয়া নিয়ে মন্তব্য করেন। মঙ্গলবার রাত ১০টা পর্যন্ত পোস্টটিতে ৬৭৫টি প্রতিক্রিয়া, ৮১টি মন্তব্য ও ১৫টি শেয়ার দেখা যায়।
তবে ওই পোস্টের কারণে জুবায়েরকে থানায় নেওয়া ডেকে নেওয়া হয়েছিল। যদিও পুলিশ দাবি করেছিলো জুবায়ের আত্মসমর্পন করেছে।