হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলা, রিচিসহ কয়েকটি এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে শিশু ও নারীসহ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। বুধবার সকাল থেকে এসব এলাকায় কুকুরের আক্রমণে আহতদের মধ্যে প্রায় ৭০ জন হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ৪০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল থেকে বহুলা, রিচিসহ আশপাশের এলাকায় একটি বেওয়ারিশ কুকুর হঠাৎ মানুষকে কামড়াতে শুরু করে। এতে শিশু, নারীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ আহত হন। কুকুরের আকস্মিক আক্রমণে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে আহতদের উদ্ধার করে হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রাজিব ভট্টাচার্য্য জানান, বুধবার সকাল থেকে কুকুরের কামড়ে আহত অন্তত ৭০ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তাদের মধ্যে ৪০ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৪-৫ জনের অবস্থা গুরুতর।
চিকিৎসকরা জানান, কুকুরে কামড়ানোর পর ক্ষতস্থান দ্রুত সাবান ও প্রবাহমান পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। পাশাপাশি দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জলাতঙ্কের টিকা নিতে হবে।
হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সাফায়াতুল ইসলাম মন্ডল বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জলাতঙ্কের টিকা নিতে হবে। এতে জলাতঙ্কের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
এদিকে, এর আগে সোমবার সন্ধ্যার পর লাখাই উপজেলায় লোকালয়ে ঢুকে একটি শেয়াল একের পর এক মানুষকে কামড় দেয়। শেয়ালের আক্রমণে সাতাউক, লকনাউক ও সানাবই এলাকায় ৮ নারী, ১৮ পুরুষ ও এক কিশোরসহ মোট ২৭ জন আহত হন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. লুৎফুল হাসান শোহন জানান, রাত ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত শেয়ালের কামড়ে আহত ২৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পরপর কুকুর ও শেয়ালের আক্রমণের ঘটনায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। লোকালয়ে বেওয়ারিশ কুকুর ও বন্যপ্রাণীর আক্রমণ ঠেকাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।