প্রকাশিত : ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৪৮ (বুধবার)
সাবেক এমপি সুলতান মনসুর ফের গ্রেপ্তার

সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মেদ

বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে ২০২২ সালে রাজধানীর নয়াপল্টনে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় দলটির কর্মী মুশফিকুর রহমান আবিরকে নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মেদকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মেদ মৌলভীবাজার-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি।

এদিন কারাগার থেকে তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। পল্টন মডেল থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মো. আবু সালেহ তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আবেদনের পক্ষে বক্তব্য দেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এর বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় মহাসমাবেশ উপলক্ষে কলাবাগান এলাকায় প্রচার-প্রচারণা শেষে বাড়ি ফেরার পথে বিএনপি কর্মী মুশফিকুর রহমান আবিরকে আসামিরা তুলে নিয়ে একটি ট্যানারি গোডাউনে আটকে রাখেন। সেখানে তাঁর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয় এবং পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই দিন নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ চলাকালে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এজাহারে আসামি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একযোগে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও শত শত রাউন্ড গুলি চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে বিএনপির বহু নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ গুলিবিদ্ধ হন। আবিরও গুলিবিদ্ধ হন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় আবির নিজেই বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় ৯৮ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মেদ এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

তবে মামলার অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে সেগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।