প্রকাশিত : ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:০৬ (বৃহস্পতিবার)
সিলেটে দেড়শতাধিক পূজামণ্ডপের দায়িত্বে বিজিবি: থাকবে ড্রোন

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সিলেট ও সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী ১৫২টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ জন্য ৩০ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ড্রোন প্রযুক্তি ও কে-৯ ডগ স্কোয়াডও ব্যবহার করা হবে।

বিজিবি সিলেট সেক্টরের অধীন সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় মোট ১ হাজার ৮০টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। এর মধ্যে সিলেটে ৬৩৬টি এবং সুনামগঞ্জে ৪৪৪টি। দুই জেলার সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে থাকা ১০৯টি এবং ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে থাকা ৪৩টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে বিজিবি।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিলেট সীমান্তের ৫৬টি বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) ও দুটি বেইস ক্যাম্প থেকে ৩০ প্লাটুন বিজিবি সদস্য সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন।

এর মধ্যে জকিগঞ্জের গুরুসদয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ বেইস ক্যাম্পে এক প্লাটুন এবং সুনামগঞ্জের বাধাঘাট সরকারি কলেজ বেইস ক্যাম্পে এক প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবেন।

বিজিবি আরও জানায়, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তায় ড্রোন প্রযুক্তি ও কে-৯ ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করা হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ সরকারের সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে কোনো পূজামণ্ডপে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা সমস্যার খবর পাওয়া গেলে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পূজাকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং পূজার্থী, দর্শনার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে বিজিবি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী টহল ও সীমান্ত এলাকায় নজরদারি অব্যাহত রাখা হবে।

কোনো সন্দেহজনক ঘটনা, বস্তু বা কার্যকলাপ চোখে পড়লে আতঙ্কিত না হয়ে নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন বা বিজিবি ক্যাম্পে জানানোর অনুরোধ জানিয়েছে বাহিনীটি। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই না করা তথ্য বা গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে।

নিরাপত্তাসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই-বাছাই করে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য সাংবাদিকদের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছে বিজিবি। সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও আনন্দমুখর দুর্গোৎসব আয়োজনের প্রত্যাশা জানিয়েছে বাহিনীটি।