প্রকাশিত : ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৪১ (শনিবার)
জার্মান বিমানবন্দরে স্যুটকেসে ৯২ সরীসৃপ, উদ্ধার ৩৭ বিষধর সাপ

ছবি সংগৃহিত

জার্মানির কোলন বন বিমানবন্দরে এক যাত্রীর স্যুটকেস তল্লাশি করে ৩৭টি বিষাক্ত সাপ ও ৫৫টি গিরগিটি উদ্ধার করেছেন শুল্ক কর্মকর্তারা। প্লাস্টিকের খাবারের বাক্স, শ্যাম্পুর বোতল ও প্রসাধনীর পাত্রসহ বিভিন্ন জিনিসের মধ্যে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল প্রাণীগুলো। এ ঘটনায় প্রাণী পাচারের অমানবিক পদ্ধতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

জার্মানির কোলন বন বিমানবন্দরে ৪৫ বছর বয়সী এক মেক্সিকান অগ্নিনির্বাপণকর্মীর স্যুটকেস থেকে ৯২টি সরীসৃপ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

শুল্ক কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই যাত্রী বিমানবন্দরের নির্ধারিত সবুজ পথ দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় তার আচরণে সন্দেহ হওয়ায় কর্মকর্তারা তার ওপর মাদক শনাক্তকরণ পরীক্ষা চালান। পরীক্ষায় কোকেনের উপস্থিতি ধরা পড়লে তার স্যুটকেসে তল্লাশি করা হয়। তবে সেখানে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। বরং স্যুটকেসের ভেতরে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় পাওয়া যায় ৩৭টি বিষাক্ত সাপ ও ৫৫টি গিরগিটি।

কর্মকর্তারা প্লাস্টিকের খাবারের বাক্স, শ্যাম্পুর বোতল, প্রসাধনীর জার এবং গোল করে রাখা মোজার ভেতর থেকে সাপগুলো উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়া প্রাণীদের মধ্যে ভাইপার, র‌্যাটলস্নেক ও ইগুয়ানাও রয়েছে।

কোলন শুল্ক কার্যালয়ের মুখপাত্র জেন্স আহল্যান্ড বলেন, বিমানবন্দরে কর্মীরা বিভিন্ন ধরনের ভ্রমণস্মারক দেখতে অভ্যস্ত হলেও মেক্সিকো থেকে আনা ৩৭টি জীবন্ত বিষাক্ত সাপ ও ৫৫টি গিরগিটি উদ্ধারের ঘটনা তাদের কাছে নজিরবিহীন। প্রাণীগুলোকে এভাবে লুকিয়ে পরিবহনের ঘটনাকে তিনি অমানবিক বলে নিন্দা জানান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্যুটকেসের ভেতরে আবদ্ধ অবস্থায় থাকার কারণে বাতাসের অভাবে যাত্রাপথে অথবা উদ্ধারের পরপরই কয়েক ডজন প্রাণীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় প্রাণীদের নিরাপত্তা ও বন্য প্রাণী পাচারের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে ওই যাত্রী দাবি করেন, ব্রাজিলে বসবাসকারী তার এক পরিচিত ব্যক্তির অনুরোধে তিনি প্রাণীগুলো ইউরোপে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে জার্মানির সীমান্ত কর্তৃপক্ষ তাকে দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে। পরে তাকে জার্মানিতে প্রবেশের অনুমতি না দিয়ে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ফেরত পাঠানো হয়। উদ্ধার হওয়া জীবিত সাপগুলোকে জার্মানির একটি সাপের খামারে পরিচর্যার জন্য রাখা হয়েছে।

জার্মানির বিমানবন্দরগুলোতে বন্য প্রাণী পাচারের ঘটনা কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। কোলন বন বিমানবন্দরেও এর আগে এমন ঘটনা ঘটেছে।

ছয় বছর আগে একই বিমানবন্দরে ২৬টি বিরল মেক্সিকান সাপ উদ্ধার করেছিলেন শুল্ক কর্মকর্তারা। সেগুলোর মধ্যে ১০টি মারা গিয়েছিল। ওই সময় খেলনা ও মিষ্টির মোড়কে লুকিয়ে পার্সেলের মাধ্যমে জার্মানির বিভিন্ন ব্যক্তিগত সংগ্রাহকের কাছে প্রাণীগুলো পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল।

জার্মান কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে দেশটিতে ১ হাজার ৩০০টি পৃথক শুল্ক অভিযানে ৫৬ হাজার ৬০০টির বেশি সংরক্ষিত প্রাণী, উদ্ভিদ এবং সেগুলো থেকে তৈরি সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনা বন্য প্রাণী পাচার প্রতিরোধে নজরদারি ও আইন প্রয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরছে।