প্রকাশিত : ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:৫৭ (সোমবার)
মহাকাশে যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রথম নভোচারী

ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের প্রথম নভোচারী আগামী ২৫ নভেম্বর মহাকাশে যাচ্ছেন। চীনের থিয়ানগং মহাকাশ স্টেশনে প্রায় এক সপ্তাহ অবস্থান করে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবেন তিনি। একই সঙ্গে ২০৩৫ সালের মধ্যে চাঁদে অবতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে পাকিস্তান।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আহসান ইকবাল এ ঘোষণা দেন। সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নারোয়ালে বিশ্ব মহাকাশ সপ্তাহের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আহসান ইকবাল বলেন, বন্ধুরাষ্ট্র চীনের সহযোগিতায় মহাকাশ গবেষণায় নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে পাকিস্তান। তিনি জানান, ২০৩৫ সালের মধ্যে চাঁদে অবতরণের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে দেশটি।

স্যাটেলাইট প্রযুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে পাকিস্তানের এই মন্ত্রী বলেন, এ প্রযুক্তি শুধু পাকিস্তান নয়, গোটা বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তাব্যবস্থাও স্যাটেলাইট প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত।

মহাকাশ গবেষণায় পিছিয়ে পড়ার বিষয়ে সতর্ক করে আহসান ইকবাল বলেন, গবেষণা না করলে উন্নয়নের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে হবে। তরুণদের প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করা এবং তাদের মধ্যে অনুসন্ধিৎসা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি নারোয়াল বিশ্ববিদ্যালয়ে পাকিস্তানের প্রথম মহাকাশ জাদুঘর প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও জানান।

পাকিস্তানের নভোচারীকে মহাকাশে পাঠানোর উদ্যোগটি চীনের সঙ্গে দেশটির বৃহত্তর মহাকাশ সহযোগিতার অংশ। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের দুই পাইলট জিশান আলী ও খুররম দাউদ বেইজিংয়ে চীনের নভোচারী গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

পাকিস্তানের পাইলট ও বিজ্ঞানীদের মধ্য থেকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা প্রায় ২০ জন প্রার্থীর মধ্য থেকে এই দুজনকে নির্বাচন করা হয়। প্রশিক্ষণে তাঁদের চীনা ভাষা, মহাকাশযানের বিভিন্ন ব্যবস্থা এবং উৎক্ষেপণের সময় মাধ্যাকর্ষণহীন পরিবেশ ও জি-ফোর্সের প্রভাব মোকাবিলার প্রস্তুতি দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচিত দুজনের একজন চীনের থিয়ানগং মহাকাশ স্টেশনে যাওয়া প্রথম পাকিস্তানি এবং প্রথম বিদেশি নভোচারী হবেন। সেখানে তিনি ‘পেলোড স্পেশালিস্ট’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রায় এক সপ্তাহ অবস্থানকালে পাকিস্তানের বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা পরিচালনা করবেন তিনি।

এদিকে পাকিস্তান ও চীন যৌথভাবে পাকিস্তানে তৈরি একটি চন্দ্রযান বা চাঁদে চলাচলকারী রোভার নিয়েও কাজ করছে। ২০২৮ সালের দিকে চীনের চাং’এ-৮ চন্দ্র অভিযানের অংশ হিসেবে রোভারটি চাঁদে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

মহাকাশে নভোচারী পাঠানো, চন্দ্রযান তৈরি এবং চাঁদে অবতরণের লক্ষ্য—এই তিন উদ্যোগের মাধ্যমে মহাকাশ গবেষণায় নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে চায় পাকিস্তান।