ছবি: সংগৃহীত
সরকারকে সহযোগিতা করার প্রস্তাব দিয়েও ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সরকার বিরোধী দলের সহযোগিতা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের সেই যোগ্যতাও নেই।
রোববার (১৮ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি আয়োজিত ‘জুলাই সনদের ১ বছর: প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার সালতামামি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা চাইনি তাদের পতন, চেয়েছিলাম তাদের সফলতা। তাদের সফলতা মানে দেশের সফলতা। আমরা এতদিন বলতাম, আমরা সরকারকে সহযোগিতা করব। আজকে থেকে ঘোষণা দিচ্ছি, ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করব। এই সরকার আমাদের সহযোগিতা নিতে ব্যর্থ। ওদের কোনো যোগ্যতা নেই বিরোধী দলের সহযোগিতা নেওয়ার।’
সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, ‘তারা সবার আগে বাংলাদেশের স্লোগান দিলেও সবার আগে বাংলাদেশ নয়। সবার আগে তারা নিজে, নিজের পরিবার, তার সন্তান, তার ভাগনা, তার ভাতিজা, তার শ্বশুর, তার স্ত্রী—এগুলো সবার আগে। আমরা সিন্ডিকেটের কাছে প্রিয় বাংলাদেশকে তুলে দেব না। ওই দিন শেষ।’
তিনি আরও বলেন, যুবসমাজ জেগে উঠেছে। পূর্ণ মুক্তি না আসা পর্যন্ত তারা থামবে না। যুবকদের সঙ্গে আরও শক্তিশালী হয়ে কাজ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের সন্তানরা ২৪-এ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। জ্বালাও-পোড়াও লাগে না, খালি হাতে ঈমানি বল ও দেশপ্রেম বুকে নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে গেলেই ফ্যাসিবাদের পতন হয়। এটা আমাদের জন্য শিক্ষা ও অনুপ্রেরণা। এ পথ ধরেই আমরা এগিয়ে যাব এবং নব্য ফ্যাসিবাদেরও পতন হবে ইনশাআল্লাহ।’
বিএনপির সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, ৫ আগস্ট দুপুর পর্যন্ত বিএনপি একটি মজলুম দল ছিল। এরপর রাতারাতি তারা অতীত ভুলে গেছে। জুলাই সনদের কিছু বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করলেও গণভোটের বিষয়ে বিএনপি কোনো ভিন্নমত জানায়নি বলে দাবি করেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত চেয়েছিল আগে গণভোট হোক, যাতে এটি অনিশ্চয়তার মধ্যে না পড়ে। কিন্তু বিএনপি একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের দাবি জানায়। পরে একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, একই ব্যক্তি দুটি শপথ নেবেন। কিন্তু বিএনপি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়নি।
এ ঘটনাকে জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জাতি ভোট দিয়েছে একটি সরকার গঠন করে পাঁচ বছর দেশ পরিচালনার জন্য, আরেকটি ভোট দিয়েছে রাষ্ট্র মেরামতের জন্য। দুই ভোটের মূল্যায়ন যদি বিএনপি করত, আমাদের এক সেকেন্ডের জন্যও সংসদের বাইরে আপাতত আন্দোলন করার প্রয়োজন হতো না। এরাই তো আমাদের আন্দোলনের পথে ঠেলে দিয়েছেন।’
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম) এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক প্রমুখ।