প্রকাশিত : ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৫৬ (মঙ্গলবার)
গোয়াইনঘাটে জমি দখল ও পরিবারকে একঘরে করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

ছবি: সংগৃহীত

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ডৌবাড়ী ইউনিয়নের বলেশ্বর গ্রামে বসতবাড়ি জমি জবরদখলের চেষ্টা, পরিবারকে সামাজিকভাবে একঘরে করে রাখা এবং প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের প্রতিবাদ জানানো হয়।

সোমবার দুপুরে গোয়াইনঘাট উপজেলা মুক্তমঞ্চে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বলেশ্বর গ্রামের মৃত মো. বশির উদ্দিনের ছেলে আব্দুস শুকুর।

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুস শুকুর অভিযোগ করেন, তাদের গ্রামের প্রভাবশালী ও দাঙ্গাবাজ লোক হিসেবে পরিচিত ইকবাল হোসেন, মাহমুদ আলী, লোকমান উদ্দিন, মুসাই মিয়া, ফরিদ উদ্দিন ও হারুন উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে তাদের বসতবাড়ি জবরদখলের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর লোকমান উদ্দিন গং একটি প্রতারণামূলক জাল দলিল তৈরি করে বাড়ি দখলের চেষ্টা করলে ভুক্তভোগী পরিবার আদালতের শরণাপন্ন হয়। সহকারী জজ আদালত গোয়াইনঘাটে একটি স্বত্ব মামলা (মামলা নং ০৪/২৪) এবং পরবর্তীতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১, সিলেটে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, আদালতে মামলা করায় প্রতিপক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের পরিবারকে সামাজিকভাবে একঘরে করে রাখে এবং মামলা প্রত্যাহার না করলে হত্যা ও বাড়ি দখলের হুমকি দেয়। বিষয়টি নিয়ে গোয়াইনঘাট থানার ওসি, ইউএনও, ডিসি এবং পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিপক্ষের উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের জবাব দেওয়া হয়েছে, বিএস ৬২৩ দাগে ভুক্তভোগী পরিবার পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে পাওয়া জমিতে ১৫ বছর ধরে বসবাস করছেন। হিসেব অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য জমির চেয়ে বাস্তবে তারা কম জমি ভোগদখলে আছেন। প্রকৃতপক্ষে বিএস ৬২৩ দাগের জমি অবৈধভাবে দখলে রেখেছেন বিবাদী মুসাই মিয়া ও মাহমুদ আলী গং।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর প্রতিপক্ষ তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে গাছপালা কেটে ফেলে ও দুটি ঘর ভেঙে ফেলে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী স্পটে এসে বাড়ি রক্ষা করে এবং বিবাদীরা জবরদখলের চেষ্টা স্বীকার করে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে আপোশনামা জমা দেয়। পরে সেনাক্যাম্প উঠে গেলে বিবাদীদের উগ্র আচরণের কারণে স্থানীয় ছাব্বিশ মৌজার মুরুব্বিদের সালিশি প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়।

এ বিষয়ে জানানো হয়, জমি বিক্রির সময় আইনি জটিলতায় ১৩ শতক জমির দলিল দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তৎকালীন সময়েই ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে বিকল্প দাগে জমি বা উপযুক্ত টাকা ফেরত দেওয়ার লিখিত অঙ্গীকার করা হয়েছিল, যা পরিশোধে পরিবারটি এখনো রাজি আছে।

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুস শুকুর বলেন, মামলা নিষ্পত্তিতে বিএস ৬২৩ দাগের অবৈধ দখল ছাড়তে হবে-এই ভয়ে প্রতিপক্ষ গ্রামের মানুষকে উস্কে দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। গ্রামের কেউ তাদের সাথে কথা বললে বড় অংকের টাকা জরিমানা করা হচ্ছে, এমনকি ১ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় এবং গবাদিপশু জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।