ছবি: সংগৃহীত
শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দঘন আবহে আজ মহানবমী। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার এ দিনটি একদিকে পূজা-অর্চনা ও নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে মুখর, অন্যদিকে দেবী দুর্গার বিদায়ের ক্ষণ ঘনিয়ে আসার বেদনায় আবেগময়। নবমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে মর্ত্যলোক ছেড়ে কৈলাসে ফিরে যাবেন দেবী দুর্গা।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে পূজা-অর্চনা, ভক্তদের অঞ্জলি নিবেদন শুরু হয়েছে। সিলেটের পূজো মন্ডপগুলোতে ভক্তের ঢল নেমেছে। অঞ্জলি প্রদান শেষে আজ মহাপ্রসাদ বিতরণ হবে দুপুরের পর থেকে। সন্ধ্যায় আয়োজন করা হবে দেবীর মহাআরতি। এ ছাড়া নবমী হোমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। এছাড়া নগরীর তোপখানা, কাজলশাহ বাগবাড়ি পূজোমন্ডপে রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন।
হিন্দুশাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী, অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে অনুষ্ঠিত সন্ধিপূজা দুর্গোৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার। অষ্টমী তিথির শেষ ২৪ মিনিট এবং নবমী তিথির প্রথম ২৪ মিনিট-মোট ৪৮ মিনিট ধরে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
সন্ধিপূজায় দেবী চামুণ্ডার আরাধনা করা হয়। প্রচলিত রীতি অনুসারে, এ সময় ১০৮টি প্রদীপ প্রজ্বালন এবং ১০৮টি পদ্মফুল নিবেদনের মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।
পুরাণের বর্ণনায়, দেবী দুর্গা অসুরবিনাশের মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তির পরাজয় ও শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। চণ্ড, মুণ্ড ও রক্তবীজসহ অসুরদের বিনাশের কাহিনি দেবীর শক্তি ও মহিমার পরিচায়ক। তাই মহানবমীর পূজা ভক্তদের কাছে ধর্মীয় তাৎপর্যের পাশাপাশি অন্যায় ও অশুভের বিরুদ্ধে শুভশক্তির বিজয়ের বার্তাও বহন করে।
এদিকে, দুর্গোৎসবের শেষলগ্নে এসে ভক্তদের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি বিষাদের অনুভূতিও বাড়ছে। পূজা, আরতি ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দেবীর আরাধনায় দিনটি কাটলেও সবার অপেক্ষা এখন বিজয়া দশমীর। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।
গত শনিবার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। দেবীকে বিদায় জানানোর মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে উৎসবের, আর ভক্তদের মনে থেকে যাবে আগামী বছরের দুর্গাপূজার অপেক্ষা।