প্রকাশিত : ২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৩১ (মঙ্গলবার)
ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন এখনো বেঁচে আছে, তবে ...

ছবি: সংগৃহীত

ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন এখনো বেঁচে আছে, তবে সেই স্বপ্নের পথে কাঁটা বিছিয়ে দিয়েছে নেট রান রেটের কঠিন হিসাব। ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হারের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকলেও আফগানিস্তানের বড় জয় বাংলাদেশের সামনে সমীকরণ আরও জটিল করে তুলেছে। এখন শেষ ম্যাচে শুধু জয় পেলেই চলবে না, জয়ের ব্যবধান কিংবা লক্ষ্য তাড়া করার গতিও হতে হবে হিসাবমাফিক। অর্থাৎ, ফাইনালের টিকিট পেতে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি স্নায়ুর পরীক্ষাও দিতে হবে টাইগারদের।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে তাই একটাই লক্ষ্য-জয়। হারলেই কোনো পয়েন্ট ছাড়াই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জিতলে তিন দলের পয়েন্ট সমান হয়ে দাঁড়াবে ২ করে। তখন ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার ভাগ্য নির্ধারিত হবে নেট রান রেটের হিসাবে।

নেট রান রেটে এগিয়ে আফগানিস্তান, চাপে বাংলাদেশ
বর্তমানে জিম্বাবুয়ের নেট রান রেট ঋণাত্মক ০.৫৯। প্রথম ম্যাচে ৯৯ রানের জয় পেলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ১৫৮ রানের বড় ব্যবধানে হারের কারণে পিছিয়ে পড়েছে দলটি। অন্যদিকে, নিজেদের প্রথম ম্যাচে ১৫৮ রানের বিশাল জয় তুলে নিয়ে নেট রান রেটের হিসাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে আফগানিস্তান।

এমনকি শেষ ম্যাচে ১০০ রানে হারলেও আফগানিস্তান শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পারবে বলে হিসাব বলছে। ফলে বাংলাদেশের প্রাথমিক লক্ষ্য জিম্বাবুয়েকে পেছনে ফেলে ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া। তবে সেই পথও সহজ নয়। বড় ব্যবধানে জয় ছাড়া শেষ পর্যন্ত হিসাব নিজেদের পক্ষে আনা কঠিন হতে পারে।

কত রানের জয় চাই?
সমীকরণের প্রথম অংশটি পরিষ্কার। আফগানিস্তানের বিপক্ষে আগে ব্যাট করলে বাংলাদেশকে অন্তত ৪১ রানের ব্যবধানে জিততে হবে। তবেই নেট রান রেটে জিম্বাবুয়েকে ছাড়িয়ে ফাইনালে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে। আর আফগানিস্তানকে পেছনে ফেলে গ্রুপের শীর্ষে থাকতে হলে জয়ের ব্যবধান হতে হবে অন্তত ১২৯ রান।

অর্থাৎ, আগে ব্যাট করার সুযোগ পেলে বড় সংগ্রহ গড়ার পাশাপাশি বোলারদেরও হতে হবে নিখুঁত। প্রতিপক্ষকে দ্রুত অলআউট করা কিংবা রান আটকে রাখার প্রতিটি মুহূর্তই হয়ে উঠতে পারে ফাইনালে ওঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ।

রান তাড়ায়ও হিসাবের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই
বাংলাদেশ পরে ব্যাট করলে সমীকরণ নির্ভর করবে আফগানিস্তানের সংগ্রহের ওপর। প্রতিপক্ষ যত বড় লক্ষ্য দেবে, বাংলাদেশকে তত দ্রুত রান তুলে ম্যাচ শেষ করতে হবে। নির্ধারিত ৫০ ওভারের ম্যাচে এখানে প্রতিটি ওভার, প্রতিটি রান এবং প্রতিটি উইকেটের গুরুত্ব আলাদা।

হিসাব অনুযায়ী, আফগানিস্তান ২৫০ রান করলে নেট রান রেটে জিম্বাবুয়েকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে উঠতে বাংলাদেশকে ৪১.৩ ওভারের মধ্যে লক্ষ্য তাড়া করতে হবে। আর গ্রুপের শীর্ষে উঠতে হলে জয় নিশ্চিত করতে হবে ২৬ ওভারের মধ্যে।

আফগানিস্তানের সংগ্রহ ২৮০ রান হলে দ্বিতীয় স্থানে ওঠার জন্য বাংলাদেশকে ৪২ ওভারের মধ্যে ম্যাচ শেষ করতে হবে। শীর্ষস্থান দখলের লক্ষ্য থাকলে জয় পেতে হবে ২৭.১ ওভারের মধ্যে।

প্রতিপক্ষ ৩০০ রান করলে দ্বিতীয় স্থানে ওঠার জন্য বাংলাদেশকে ৪২.২ ওভারের মধ্যে লক্ষ্য ছুঁতে হবে। আর শীর্ষে থাকতে হলে রান তাড়া শেষ করতে হবে ২৮ ওভারের মধ্যে।

একইভাবে, আফগানিস্তান ৩২০ রান তুললে দ্বিতীয় স্থানে ওঠার জন্য বাংলাদেশকে ৪২.৪ ওভারের মধ্যে জিততে হবে। আর গ্রুপের শীর্ষে ওঠার স্বপ্ন পূরণ করতে হলে লক্ষ্য পেরোতে হবে ২৮.৫ ওভারের মধ্যে।

এই হিসাবগুলোই বলে দিচ্ছে, রান তাড়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সামনে কতটা কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। শুধু উইকেট হাতে রেখে এগোলেই হবে না, রান তোলার গতিও রাখতে হবে প্রয়োজনীয় মাত্রায়। শুরুতে দ্রুত রান তোলার তাগিদ আর উইকেট হারানোর ঝুঁকির মধ্যে ভারসাম্য রাখাটাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রথম ম্যাচের হারই এখন বড় বাধা
ক্রিকেটে একটি হার কখনো কখনো পরের ম্যাচের চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও হয়েছে সেটিই। প্রথম ম্যাচে ৯৯ রানের পরাজয় নেট রান রেটের হিসাবে দলকে পিছিয়ে দিয়েছে। ফলে শেষ ম্যাচে জিতলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ নেই; বরং কত ব্যবধানে জয় এল, কিংবা কত ওভারে লক্ষ্য পূরণ হলো, সেটিই হয়ে উঠবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এখন বাংলাদেশের সামনে তাই হিসাবটা সোজা, কিন্তু বাস্তবায়ন কঠিন। আগে ব্যাট করলে অন্তত ৪১ রানের জয় চাই। পরে ব্যাট করলে প্রতিপক্ষের সংগ্রহ অনুযায়ী প্রায় ৪১ থেকে ৪২ ওভারের মধ্যে ম্যাচ শেষ করার লক্ষ্য রাখতে হবে। অর্থাৎ, ৫০ ওভারের লড়াইয়ে হাতে রাখতে হবে প্রায় আট ওভার।

সব মিলিয়ে ফাইনালে যাওয়ার দরজা এখনো বন্ধ হয়নি বাংলাদেশের জন্য। তবে সেই দরজা খুলতে হলে শেষ ম্যাচে নিখুঁত পরিকল্পনা, দায়িত্বশীল ব্যাটিং এবং কার্যকর বোলিংয়ের সমন্বয় ঘটাতে হবে। ভাগ্যের অপেক্ষায় বসে থাকার সুযোগ নেই; মাঠে নেমেই নিজেদের ভাগ্য গড়ে নিতে হবে টাইগারদের।

শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ কি পারবে বড় জয়ের মাধ্যমে নেট রান রেটের জট খুলে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে? নাকি প্রথম ম্যাচের ব্যর্থতাই শেষ পর্যন্ত হয়ে থাকবে বিদায়ের কারণ? উত্তর মিলবে মাঠের লড়াই শেষেই।