প্রকাশিত : ২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৫৭ (মঙ্গলবার)
সৌদিতে গ্রেফ/তারের আগে যে আক্ষেপ জানিয়েছিলেন নজরুল

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির একজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যুবক নজরুল ইসলাম মাহিন। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার আশায় ঋণ করে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। পবিত্র মসজিদুল হারামে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজও পেয়েছিলেন। কিন্তু প্রবাসজীবনের নানা স্বপ্ন আর মধ্যবিত্ত পরিবারের টানাপোড়েন নিয়ে তাঁর লেখা ফেসবুক পোস্টগুলো এখন শোকের আবহে নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

‘চিন্তা কমাতেও চিন্তা করতে হয় মধ্যবিত্ত সন্তানদের’—গ্রেপ্তারের আগে ২০২৩ সালের ৩ মে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এমন আক্ষেপের কথা লিখেছিলেন নজরুল।

পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে সাত লাখ টাকা ঋণ করে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পরিবারের দুশ্চিন্তা দূর করার সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না তাঁর।

নজরুল ইসলাম মাহিন নামের ফেসবুক প্রোফাইল ঘুরে দেখা যায়, প্রবাসজীবনের শুরু থেকেই মধ্যবিত্ত জীবনের নানা টানাপোড়েন, স্বপ্ন ও বাস্তবতার কথা নিয়মিত তুলে ধরতেন তিনি।

সৌদি আরবে যাওয়ার কিছুদিন পর, ২০২২ সালের ২৯ নভেম্বর আরেকটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ভাব নেয়াটা আমাকে মানায় নাহ, কারণ আমি মধ্যবিত্ত।’ এরপর ২০২৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ঘাসের ওপর শুয়ে থাকা একটি ছবি দিয়ে লেখেন, ‘পকেটে টাকা থাকলে তোমরা দুনিয়া কিনতে পারবে।’

পরবর্তী সময়ে মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ পান নজরুল। ২০২৩ সালের ৮ মার্চ কাবা শরিফের সামনে নীল রঙের ইউনিফর্ম পরা নিজের একটি ছবি পোস্ট করে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ ক্লিনার মক্কা হেরাম শরিফ।’

২০২২ সালের ১৩ নভেম্বর দেশ ছাড়ার সময় বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে তোলা একটি ছবিও ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন তিনি। ছবির সঙ্গে লিখেছিলেন, ‘গুড বাই বাংলাদেশ’। একই পোস্টে সবাইকে মনে পড়ার কথা জানিয়ে নিজের জন্য দোয়া চেয়েছিলেন তিনি।

২০২২ সালের ১০ নভেম্বর ২২ বছর বয়সে সৌদি আরবে পাড়ি জমান নজরুল। সেখানে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর দেশটির পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। এরপর তিন বছর তিন মাস কারাগারে বন্দি থাকার পর গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। একই দিন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় অপর বাংলাদেশি সুইটি আক্তারেরও।

মক্কা অঞ্চলে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশের পর নজরুলের পুরোনো ফেসবুক পোস্টগুলো ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছেন অনেকে।

এদিকে ছেলের মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েছেন মা রহিমা বেগম। তিনি জানান, কারাগারে বন্দি থাকার পরও প্রতি রোববার পরিবারের সঙ্গে কথা বলতেন নজরুল। সেই কথোপকথনই ছিল মা-বাবার সান্ত্বনা। কিন্তু হঠাৎ করেই সব শেষ হয়ে যায়।

পরিবারের দাবি, গণমাধ্যমের খবর থেকেই প্রথম ছেলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি জানতে পারেন তাঁরা। আগে থেকে তাঁদের এ বিষয়ে জানানো হয়নি। ছেলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর শোনার পর থেকেই পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন স্বজনেরা।