ছবি: ইমজা নিউজ
কয়লার আগুনে ইস্ত্রি গরম হয়, সেই ইস্ত্রির ছোঁয়ায় কাপড়ের ভাঁজ মিলিয়ে যায়। কিন্তু সেই আগুনে ঘাম ঝরানো মানুষটির জীবনের অনিশ্চয়তা কি সহজে দূর হয়? আধুনিক বৈদ্যুতিক ইস্ত্রির যুগেও কয়লার ইস্ত্রি দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জের সুকলাল বৈদ্য (সুকান্ত)। প্রায় এক যুগ ধরে এ পেশায় যুক্ত তিনি। প্রতিদিনের আয়েই চলে তাঁর সংসার, তবে সেই আয়ের নিশ্চয়তা নেই।
সকালে কাজের আশায় ইস্ত্রি নিয়ে বসেন সুকলাল। কয়লা জ্বালিয়ে ইস্ত্রি গরম করেন, তারপর একের পর এক কাপড়ের ভাঁজ মসৃণ করেন। শার্ট, প্যান্টসহ বিভিন্ন পোশাক ইস্ত্রি করে যা আয় হয়, তা দিয়েই পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করেন। প্রযুক্তির পরিবর্তনে বৈদ্যুতিক ইস্ত্রির ব্যবহার বাড়লেও তাঁর জীবনে কয়লার ইস্ত্রিই এখনো বেঁচে থাকার অন্যতম অবলম্বন।
এ বিষয়ে সুকলাল বৈদ্য বলেন, প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর ধরে কয়লার ইস্ত্রি দিয়ে কাপড় ইস্ত্রি করছি। কোনো দিন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় হয়, আবার কোনো দিন তেমন আয়ই হয় না। কাজের ওপরই আয় নির্ভর করে। এ আয় দিয়ে সংসার চালাতে হয়। কাজ কম থাকলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয় সমাজকর্মী মামুন আহমদ বলেন, সুকলালের মতো ক্ষুদ্র পেশাজীবীরা নিজেদের শ্রমের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাঁদের কাজের স্বীকৃতি ও জীবনমান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তাছলিমা আক্তার লিমা বলেন, এ রকম অল্প আয়ের মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে কাজ করেছে। আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে কথা বলে তার সমস্যা যেনে যতটুকু সাহায্য করার প্রয়োজন তা করব।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিল্লোল চাকমা বলেন, স্থানীয় সরকার কর্মসংস্থানের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে। এ ধরনের কর্মঠ মানুষকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলা তাঁদের জীবনমান উন্নতি সাধন করা সম্ভব।