প্রকাশিত : ২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:২৩ (বৃহস্পতিবার)
যুক্তরাজ্যের কাউন্সিল স্পিকার মুশতাক আহমদকে সংবর্ধনা দেবে জালালপুরবাসী

ব্যারিস্টার মুশতাক আহমদ

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার জালালপুর ইউনিয়নের কৃতী সন্তান ও যুক্তরাজ্যের টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের স্পিকার ব্যারিস্টার মুশতাক আহমদ সংক্ষিপ্ত সফরে বাংলাদেশে এসেছেন। দেশে এসে তিনি জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন কূটনৈতিক মহলের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন তিনি।

তাঁর দেশে আগমন উপলক্ষে দক্ষিণ সুরমার জালালপুর ইউনিয়নবাসীর উদ্যোগে আগামী ২৪ অক্টোবর শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। জালালপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জিয়াউর রহমান। বিশেষ অতিথি থাকবেন সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস উন নূর।

অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক নেসারুল হক চৌধুরী বুস্তান ও সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সবার উপস্থিতি কামনা করেছেন।

এদিকে আগামী ২ নভেম্বর সোমবার ফজলুর রহমান মেম্বার স্মৃতি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জালালপুর ডিগ্রি কলেজে আরেকটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম। ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাংবাদিক খালেদ আহমদ সংশ্লিষ্ট সবার উপস্থিতি কামনা করেছেন।

ব্যারিস্টার মুশতাক আহমদের জন্ম সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের খতিরা গ্রামে। তাঁর বাবা মোহাম্মদ ইব্রাহিম বেগ ও মা হুসনে আরা বেগম—দুজনই প্রয়াত। মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। সেখানে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নিজের জীবন গড়ে তোলেন।

কর্মজীবনের শুরুতে তিনি রেস্তোরাঁয় কিচেন পোর্টার হিসেবে কাজ করেন। পরে নিজেই রেস্তোরাঁ ব্যবসা গড়ে তোলেন এবং টানা ১২ বছর ক্যাটারিং খাতে কাজ করেন।

৩২ বছর বয়সে নতুন করে পড়াশোনা শুরু করেন মুশতাক আহমদ। ভর্তি হন টাওয়ার হ্যামলেটস কলেজে এবং নির্বাচিত হন ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’। এরপর আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি ও ওপেন ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনার পর ইউনিভার্সিটি অব ল’ থেকে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করেন। ২০১৭ সালে ইনার টেম্পল থেকে ব্যারিস্টার হিসেবে অভিষিক্ত হন।

বর্তমানে তিনি প্রশিক্ষণরত সলিসিটর ও মামলা-সংক্রান্ত পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন। দেওয়ানি, কর্মসংস্থান ও অভিবাসন আইনে কাজের পাশাপাশি পুলিশ স্টেশনে আইনগত প্রতিনিধিত্বের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর।

মুশতাক আহমদ ছাত্রাবস্থায় রয়্যাল লন্ডন হাসপাতালে স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শক হিসেবে কাজ শুরু করেন। প্রায় ১৫ বছর এ দায়িত্ব পালন করে চিকিৎসাসেবা গ্রহীতাদের কল্যাণে ভূমিকা রাখেন।

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলেও তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে কর্মসংস্থান, দক্ষতা ও প্রবৃদ্ধিবিষয়ক কেবিনেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ওভারভিউ অ্যান্ড স্ক্রুটিনি কমিটির চেয়ারম্যান এবং বিভিন্ন কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

কমিউনিটির নানা কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় তিনি। পুলিশ কাস্টডি ভিজিটর প্যানেলের সদস্য, স্কুল গভর্নর এবং কাউন্সিল অব মস্ক টাওয়ার হ্যামলেটসের সাবেক নির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া বিশপসওয়ে মসজিদের পরিচালক ও সেক্রেটারি হিসেবে আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করেছেন। জালালপুর অ্যাডভান্সমেন্ট কমিটি ইউকের সেক্রেটারি হিসেবেও নিজ এলাকার উন্নয়নে যুক্ত রয়েছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে পরিবারকে বিশেষ গুরুত্ব দেন মুশতাক আহমদ। নিজের সাফল্যের পেছনে স্ত্রীর অবদানকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। তাঁদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বড় ছেলে ও মেয়ে আইন পেশায় যুক্ত হয়েছেন। সাহিত্য, দর্শন ও ধর্মতত্ত্বের প্রতিও তাঁর গভীর আগ্রহ রয়েছে।

জীবনের নানা পর্যায়ে সংগ্রাম, শিক্ষা ও জনসেবার মধ্য দিয়ে এগিয়ে আসা মুশতাক আহমদের এই সফরকে কেন্দ্র করে নিজ এলাকায় দুটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।