প্রকাশিত : ২১ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:০৩ (বৃহস্পতিবার)
ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ স্থগিত চেয়ে আদালতে ট্রাম্প প্রশাসন

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডাইভার্সিটি ভিসা (ডিভি) লটারির নিবন্ধন পুনরায় চালুর নির্দেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। একই সঙ্গে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদালতের আদেশ স্থগিত রাখার আবেদনও করেছে সরকার। এতে বহুল আলোচিত গ্রিন কার্ড লটারির নিবন্ধন শুরু হওয়া নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে ক্যালিফোর্নিয়ার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতের বিচারক জিনসুক ওহটা অভিবাসন আইন সংস্থা রেড ঈগল ল-এর করা মামলায় ডিভি-২০২৭ লটারির নিবন্ধন পুনরায় চালুর নির্দেশ দেন। প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে তিনি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে এ কর্মসূচি চালুর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলেন।

ডিভি লটারি বা গ্রিন কার্ড লটারির মাধ্যমে ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে কমসংখ্যক অভিবাসী পাঠানো দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার ডাইভার্সিটি ভিসার সুযোগ রাখা হয়। নির্বাচিত হলেও স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পেতে আবেদনকারীদের নির্ধারিত যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর জানিয়েছিল, ডিভি-২০২৭ লটারির আবেদনপ্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নিবন্ধন শুরুর তারিখ পরে ঘোষণা করা হবে বলেও জানানো হয়েছিল। তবে ২০২৭ অর্থবছর শুরু হওয়ার পরও নিবন্ধন চালু হয়নি।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, নিবন্ধনের সুযোগ না থাকলে কেউ ডাইভার্সিটি ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন না। ফলে নিবন্ধন কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত থাকায় কার্যত পুরো কর্মসূচিই বন্ধ হয়ে পড়েছিল।

বিচারক ওহটার মতে, সাময়িকভাবে নিবন্ধন স্থগিত রাখার ঘোষণা কীভাবে অনির্দিষ্টকালের স্থগিতাদেশে পরিণত হলো, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তর যথাযথ ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। এ কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের বিষয়টি কর্মকর্তারা বিবেচনা করেছিলেন কি না, সে সম্পর্কেও স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

বিচারকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, যথাযথ ব্যাখ্যার অভাবে ডিভি-২০২৭ কর্মসূচি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তকে স্বেচ্ছাচারী ও যুক্তিহীন বলে বিবেচনা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

মামলায় রেড ঈগল ল যুক্তি দেয়, ডিভি লটারি বন্ধ থাকলে প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহক ও আয় কমে যাবে। এ ক্ষতি পরবর্তী সময়ে মামলার মাধ্যমে পূরণ করাও সম্ভব হবে না।

বিচারক মনে করেন, নিবন্ধন চালু করলে সরকারের ওপর অন্যায্য চাপ সৃষ্টি হবে না। বরং ফেডারেল আইন মেনে কর্মসূচি পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া জনস্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

অন্যদিকে, সরকার যুক্তি দিয়েছিল, নিবন্ধনের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর আদালত লটারি চালুর নির্দেশ দিতে পারেন না। দেশব্যাপী কার্যকর এমন নিষেধাজ্ঞা জারি করাও যথাযথ নয় বলে দাবি করে সরকার।

তবে বিচারক এসব যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, দেরিতে নিবন্ধন শুরু হলেও কংগ্রেসের নির্ধারিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে।

আদালতের সংশোধিত সময়সূচি অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের সময়সীমা ঘোষণা করতে হবে। এরপর ১ নভেম্বর থেকে ৩০ দিনের জন্য নিবন্ধন কার্যক্রম চালুর কথা রয়েছে। নির্বাচিত আবেদনকারীদের ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে অবহিত করার সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের আপিল এবং আদালতের আদেশ স্থগিত রাখার আবেদনের কারণে এই সময়সূচি বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আপিলের পর আদালত কী সিদ্ধান্ত দেন, তার ওপর নিবন্ধন কার্যক্রমের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করতে পারে।

ডিভি লটারিতে নিবন্ধন করা, লটারিতে নির্বাচিত হওয়া এবং ভিসা পাওয়া- তিনটি আলাদা ধাপ। নিবন্ধনের পর নির্বাচিত হলেও আবেদনকারীদের যোগ্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা, সাক্ষাৎকারসহ নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। নির্বাচন ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়।

তাই আদালতের নির্দেশে নিবন্ধন চালুর সম্ভাবনা তৈরি হলেও ট্রাম্প প্রশাসনের আপিলের পরবর্তী সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আবেদনকারীদের নিবন্ধনের তারিখ ও নিয়মাবলি সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।