প্রকাশিত : ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:০৯ (শুক্রবার)
কানাডার ভিসায় জালিয়াতি ২০৯ বাংলাদেশির, পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি: সংগৃহীত

জাল কাগজপত্র ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করে ২০৯ বাংলাদেশি নাগরিকের কানাডার ভিসা পাওয়ার আবেদনে জালিয়াতির অভিযোগে পাঁচ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে দেশটির সীমান্তরক্ষী সংস্থা কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (সিবিএসএ)। মোট ২৪৩টি সাময়িক আবাসিক ভিসার (টিআরভি) আবেদনে জালিয়াতির তথ্য পাওয়ার পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

অভিযুক্তদের মধ্যে রাসেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাচ্ছার আলম ভূঁইয়া ও কাজী নাফিজ আলম বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) কুইবেকের ভ্যালিফিল্ড আদালতে হাজির হন। মামলার পঞ্চম আসামি মো. রকিবুল হাসান বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে কানাডার আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে এ জালিয়াতির ঘটনা তদন্তে আসে। ওই বছরের ৩ জুলাই কুইবেকের মার্সিয়ার শহরের একটি বাড়িতে স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় অভিযান চালায় সিবিএসএ। সেখানে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের বেশ কিছু প্রমাণ পাওয়ার পর একই বছরের আগস্টে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়।

তদন্তে দেখা যায়, কানাডায় বসবাসকারী কয়েকজন নাগরিককে ভুয়া আমন্ত্রণকারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। তাঁদের পরিচয় ব্যবহার করে একটি চক্র জাল নথি তৈরি করে বাংলাদেশিদের কানাডায় নেওয়ার চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে ২০২৫ সালের জুনে কুইবেক ও অন্টারিওতে একযোগে তল্লাশি চালিয়ে ল্যাপটপ, কম্পিউটারসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র জব্দ করা হয়। অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য সিবিএসএ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সুস্পষ্ট ৭৯টি ভিসা আবেদন বেছে নিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কানাডায় অবৈধভাবে লোক প্রবেশ করানোর ষড়যন্ত্র, ভিসার আবেদনে তথ্য গোপনে সহায়তা এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

কানাডার জননিরাপত্তামন্ত্রী গ্যারি আনন্দসঙ্গরী বলেন, দেশটির অভিবাসনব্যবস্থা আইনের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। নিয়ম ভেঙে যারা এ ধরনের জালিয়াতির চেষ্টা করবে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

অন্যদিকে, সিবিএসএ জানিয়েছে, ভিসাব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখতে প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে তাদের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।