প্রকাশিত : ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৪৪ (শুক্রবার)
পাবনায় মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মাদ্রাসায় আগুন, শিক্ষক আটক

ছবি: সংগৃহীত

পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নে আবাসিক মাদ্রাসার এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আবু ইউসুফ নামে এক শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ স্থানীয় লোকজন মাদ্রাসাটিতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছেন। পরে শিক্ষকের বাড়িতেও আগুন দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ইউনিয়নের দড়িভাউডাঙ্গা এলাকায় পদ্মা হাসপাতালের পাশে অবস্থিত নুরানী মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। আটক আবু ইউসুফ সাদুল্লাহপুর ইউনিয়নের খালিশপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে ওই এলাকায় মাদ্রাসাটি পরিচালনা করে আসছিলেন আবু ইউসুফ। মাদ্রাসাটিতে আবাসিক ব্যবস্থাও ছিল। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণেই বসবাস করতেন। ঘটনার দিন তার স্ত্রী বাড়িতে যাওয়ায় তিনি মাদ্রাসায় একা ছিলেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গভীর রাতে নাজেরা বিভাগের এক ছাত্রী বাইরে বের হলে আবু ইউসুফ তাকে জোরপূর্বক একটি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় ওই ছাত্রী সেখান থেকে বেরিয়ে স্থানীয় লোকজনকে বিষয়টি জানায়। খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়।

পরে স্থানীয় লোকজন মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করেন এবং পুলিশকে খবর দেন। এ সময় মাদ্রাসার অন্য আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাদের অভিভাবকদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে হেফাজতে নেয়। এর কিছুক্ষণ পর বিক্ষুব্ধ লোকজন মাদ্রাসাটিতে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। এ ছাড়া শিক্ষকের বাড়িতেও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ খান জানান, ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা মাদ্রাসা ও শিক্ষকের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবার লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সুপার আরও জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।