ছবি: ইমজা নিউজ
সিলেটে বিশ্ব পোলিও দিবস উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা করেছে রোটারি ক্লাব ডি-৬৫ সিলেট জোন। পোলিও নির্মূলে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধি এবং টিকাদান কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরতে এ আয়োজন করা হয়।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় নগরের সারদা হল প্রাঙ্গণ থেকে র্যালিটি বের হয়ে চৌহাট্টার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিতে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ‘এন্ড পোলিও নাউ’ ও ‘ওয়ান ওয়ার্ল্ড, ওয়ান গোল’ লেখা প্ল্যাকার্ড ছিল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন রোটারি পিডিজি শহীদ আহমেদ চৌধুরী।
রোটারি রিজিওনাল পোলিও প্লাস কমিটির (রিপসা) ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের স্পেশাল অ্যাডভাইজার রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট সিদ্দিকুর রহমান, সিনিয়র কো-অর্ডিনেটর (ফাইন্যান্স) রোটারিয়ান মো. কবির উদ্দিন, অ্যাসিস্ট্যান্ট কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর রোটারিয়ান জাকির আহমেদ, কো-অর্ডিনেটর (অ্যাডমিন) অ্যাডভোকেট সালেহ আহমেদ চৌধুরী ও পাস্ট প্রেসিডেন্ট আলী আশরাফ খালেদ বক্তব্য দেন।
প্রোগ্রাম চেয়ারপারসন রোটারিয়ান মো. আবুল কালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রোগ্রাম সেক্রেটারি রোটারিয়ান পিপি অ্যাডভোকেট এমএ হাফিজ পিএইচএফ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অ্যাসিস্ট্যান্ট কো-অর্ডিনেটর সেলীনা আক্তার চৌধুরী, রেজিস্ট্রেশন চেয়ার রোটারিয়ান এএসএমজি কিবরিয়া এবং ফুড চেয়ার ফারুক আহমেদ। এ ছাড়া সিলেট জোনের প্রায় সব ক্লাবের প্রেসিডেন্ট, কর্মকর্তা, রোটারিয়ান ও সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে মো. আবুল কালাম বলেন, ‘বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী পোলিও নির্মূলে রোটারির অবদান অনন্য। এই কার্যক্রমের সম্পূর্ণ বাজেট রোটারি থেকে দেওয়া হয়। র্যালির মাধ্যমে আমরা চাই সারা বিশ্ব জানুক- পোলিও নির্মূলে রোটারি এখনো অগ্রণী ভূমিকা রাখছে।’
বিশ্বব্যাপী পোলিও নির্মূল রোটারি ইন্টারন্যাশনালের অন্যতম প্রধান কর্মসূচি। ১৯৭৯ সালে ফিলিপাইনে শিশুদের পোলিও টিকা দেওয়ার একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সংস্থাটি এ কার্যক্রম শুরু করে। পরে ১৯৮৮ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ ও যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের সঙ্গে রোটারি গ্লোবাল পোলিও ইরাডিকেশন ইনিশিয়েটিভের প্রতিষ্ঠাতা অংশীদার হয়। এ বৈশ্বিক উদ্যোগ শুরুর পর বিশ্বে পোলিও আক্রান্তের ঘটনা ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশের বেশি কমেছে।
বাংলাদেশেও পোলিও নির্মূলে রোটারি ইন্টারন্যাশনাল, সরকার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফসহ বিভিন্ন সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছে। ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ জাতীয় টিকাদান দিবস পালন শুরু করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৫ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দেশে ২১টি জাতীয় টিকাদান দিবস অনুষ্ঠিত হয়। এসব কর্মসূচিতে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রায় ১০০ কোটি ডোজ মুখে খাওয়ার পোলিও টিকা দেওয়া হয়।
বাংলাদেশে সর্বশেষ ২০০৬ সালে পোলিওভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল। এরপর দেশে আর এ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি। ২০১৪ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলকে পোলিওমুক্ত হিসেবে সনদ দেওয়া হয়। তবে বিশ্ব থেকে রোগটি পুরোপুরি নির্মূল না হওয়ায় টিকাদান ও নজরদারি অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিবছর ২৪ অক্টোবর বিশ্ব পোলিও দিবস পালিত হয়। পোলিও টিকার উদ্ভাবক জোনাস সালকের জন্মদিন স্মরণে রোটারি ইন্টারন্যাশনাল দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেয়। পোলিও নির্মূলে বিশ্বব্যাপী চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং রোগটি পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত টিকাদান কর্মসূচির প্রতি সমর্থন ধরে রাখা দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ নিবন্ধন করা ক্লাবগুলোর মধ্যে রোটারি ক্লাব অব সিলেট মেট্রোপলিটন, রোটারি ক্লাব অব সিলেট ক্বীন ব্রিজ, রোটারি ক্লাব অব সিলেট আর্কেডিয়া, রোটারি ক্লাব অব সিলেট সেন্ট্রাল ও রোটারি ক্লাব অব বিয়ানীবাজারকে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মানিত করা হয়।